চাকরির বাজার বদলে যাচ্ছে দ্রুত। যে কাজ একসময় করতে কয়েকজন কর্মীর প্রয়োজন হতো, এখন তার অনেকটাই করে ফেলছে সফটওয়্যার, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ও রোবট। আবার একই প্রযুক্তির কারণে তৈরি হচ্ছে নতুন নতুন পেশা, যেগুলোর অনেকগুলোর অস্তিত্বই এক দশক আগেও ছিল না।
চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই পরিবর্তন আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশের শ্রমবাজারেও বড় প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, ডেটা বিশ্লেষণ, রোবোটিক্স, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বৈদ্যুতিক যানবাহন, স্বাস্থ্যসেবা ও দক্ষ কারিগরি পেশায় চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিপরীতে রুটিনভিত্তিক ডেটা এন্ট্রি, সাধারণ প্রশাসনিক কাজ, ক্যাশিয়ার কিংবা পুনরাবৃত্তিমূলক উৎপাদনকাজ ধীরে ধীরে সংকুচিত হতে পারে।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের রিপোর্ট’ অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বে প্রায় ১৭ কোটি নতুন চাকরি তৈরি হতে পারে। একই সময়ে প্রায় ৯ কোটি ২০ লাখ চাকরি বিলুপ্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। অর্থাৎ প্রযুক্তির কারণে কিছু কাজ হারালেও নতুন কাজ তৈরির সম্ভাবনাই বেশি। তবে নতুন চাকরিগুলোর জন্য প্রয়োজন হবে নতুন দক্ষতা।
বাংলাদেশের জন্য এখানেই বড় প্রশ্ন, আগামী দশকে কোন পেশায় সুযোগ বাড়বে এবং কোন দক্ষতা অর্জন করলে তরুণরা পরিবর্তিত শ্রমবাজারে টিকে থাকতে পারবেন?
এআই ও ডেটার চাকরি
আগামী দিনের শ্রমবাজারে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোর একটি হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডেটা। ব্যবসা, ব্যাংকিং, স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি, শিক্ষা, উৎপাদন—প্রায় সব ক্ষেত্রেই সিদ্ধান্ত গ্রহণে ডেটার ব্যবহার বাড়ছে।
ফলে ডেটা অ্যানালিস্ট, ডেটা সায়েন্টিস্ট, এআই ইঞ্জিনিয়ার, মেশিন লার্নিং বিশেষজ্ঞ এবং এআই সিস্টেম ডেভেলপারদের চাহিদা বাড়তে পারে।
তবে শুধু প্রোগ্রামিং জানলেই হবে না। ডেটা বিশ্লেষণ করে ব্যবসায়িক বা সামাজিক সমস্যার সমাধান করার সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।
বিশেষ করে বাংলাদেশের তরুণদের জন্য এটি বড় সুযোগ। কারণ ডিজিটাল সেবা ও সফটওয়্যারভিত্তিক কাজ দেশের বাইরে বসেও করা সম্ভব। দক্ষতা থাকলে আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রবেশের সুযোগও তৈরি হবে।
সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্টের নতুন যুগ
সফটওয়্যার এখন শুধু প্রযুক্তি কোম্পানির বিষয় নয়। ব্যাংক, হাসপাতাল, বিশ্ববিদ্যালয়, পোশাক কারখানা, পরিবহন, কৃষি—সব খাতেই সফটওয়্যার অপরিহার্য হয়ে উঠছে।
তাই সফটওয়্যার ডেভেলপার, অ্যাপ্লিকেশন ডেভেলপার, ক্লাউড ইঞ্জিনিয়ার, সিস্টেম আর্কিটেক্ট এবং এআই-ভিত্তিক সফটওয়্যার নির্মাতাদের চাহিদা আগামী দিনেও থাকবে।
তবে এ ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আসছে। এআই এখন কোড লেখার অনেক কাজ করতে পারছে। ফলে ভবিষ্যতের সফটওয়্যার প্রকৌশলীকে শুধু কোড লেখার দক্ষতা নয়, বরং সিস্টেম ডিজাইন, সমস্যা সমাধান, নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিকে ব্যবসায়িক প্রয়োজনের সঙ্গে যুক্ত করার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।
সাইবার নিরাপত্তায় বাড়বে কর্মসংস্থান
ডিজিটাল নির্ভরতা যত বাড়ছে, সাইবার হামলার ঝুঁকিও তত বাড়ছে। ব্যক্তিগত তথ্য থেকে শুরু করে ব্যাংকিং ব্যবস্থা, সরকারি ডেটাবেস ও ব্যবসায়িক অবকাঠামো—সবকিছুই এখন সাইবার নিরাপত্তার সঙ্গে যুক্ত।
ফলে সাইবার সিকিউরিটি অ্যানালিস্ট, এথিক্যাল হ্যাকার, সিকিউরিটি ইঞ্জিনিয়ার, ডিজিটাল ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ এবং তথ্য সুরক্ষা কর্মকর্তাদের প্রয়োজন বাড়বে।
বাংলাদেশের জন্য এই খাতটি বিশেষ সম্ভাবনাময়। কারণ স্থানীয় প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানেও সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের প্রয়োজন রয়েছে।
রোবোটিক্স ও অটোমেশন
কারখানায় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি খরচ কমাতে অটোমেশন দ্রুত বাড়ছে। তৈরি পোশাক, ওষুধ, খাদ্য, ইলেকট্রনিকসসহ বিভিন্ন উৎপাদন খাতে রোবোটিক্স ও স্বয়ংক্রিয় যন্ত্রের ব্যবহার বাড়তে পারে।
এর ফলে কিছু সাধারণ শ্রমনির্ভর কাজ কমলেও নতুন ধরনের কাজ তৈরি হবে। যেমন রোবোটিক্স টেকনিশিয়ান, অটোমেশন ইঞ্জিনিয়ার, মেশিন মেইনটেন্যান্স বিশেষজ্ঞ, ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইওটি বিশেষজ্ঞ এবং অটোমেশন কন্ট্রোল টেকনিশিয়ান।
অর্থাৎ মেশিনের আগমন মানেই শুধু চাকরি হারানো নয়; বরং মেশিন পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নতুন দক্ষ কর্মীরও প্রয়োজন হবে।
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে নতুন সুযোগ
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে বিশ্বজুড়ে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়ছে। বাংলাদেশেও সৌরবিদ্যুৎসহ বিকল্প জ্বালানির সম্ভাবনা রয়েছে।
আগামী দশকে সোলার টেকনিশিয়ান, রিনিউয়েবল এনার্জি ইঞ্জিনিয়ার, এনার্জি অডিটর, ব্যাটারি বিশেষজ্ঞ এবং পরিবেশ প্রকৌশলীদের চাহিদা বাড়তে পারে।
গ্রিন বিল্ডিং, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, পানি ব্যবস্থাপনা এবং কার্বন নিঃসরণ কমানোর কাজেও নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
বৈদ্যুতিক গাড়ির সঙ্গে বদলাবে অটোমোবাইল খাত
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ছে। বাংলাদেশের পরিবহন খাতেও ভবিষ্যতে বৈদ্যুতিক যানবাহনের ব্যবহার বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে প্রচলিত গাড়ি মেরামতের পাশাপাশি প্রয়োজন হবে ইভি টেকনিশিয়ান, ব্যাটারি টেকনিশিয়ান, চার্জিং স্টেশন ইঞ্জিনিয়ার, পাওয়ার ইলেকট্রনিকস বিশেষজ্ঞ এবং ইভি সফটওয়্যার বিশেষজ্ঞের।
অর্থাৎ একজন দক্ষ গাড়ি মেকানিকের জন্যও প্রযুক্তির পরিবর্তনকে ভয় পাওয়ার কারণ নেই; বরং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়াই হবে টিকে থাকার কৌশল।
স্বাস্থ্যসেবায় মানুষের বিকল্প নেই
প্রযুক্তি চিকিৎসাবিজ্ঞানে বিপ্লব ঘটালেও মানুষের সরাসরি যত্নের প্রয়োজন শেষ হবে না। এআই রোগ নির্ণয়ে সহায়তা করতে পারে, রিপোর্ট বিশ্লেষণ করতে পারে কিংবা চিকিৎসকদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহযোগিতা করতে পারে। কিন্তু রোগীর শারীরিক ও মানসিক যত্নে মানুষের ভূমিকা অপরিহার্য।
তাই নার্স, ফিজিওথেরাপিস্ট, চিকিৎসা প্রযুক্তিবিদ, মানসিক স্বাস্থ্য পেশাজীবী, বয়স্কদের পরিচর্যাকারী এবং বিশেষায়িত স্বাস্থ্যকর্মীদের চাহিদা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জনসংখ্যার বয়স কাঠামো পরিবর্তন ও স্বাস্থ্যসেবার বিস্তারের সঙ্গে এই খাত আরও বড় হতে পারে।
দক্ষ কারিগরি পেশার গুরুত্ব বাড়বে
এআই যতই উন্নত হোক, বাস্তব জগতের প্রতিটি জটিল পরিস্থিতিতে রোবটকে পাঠানো সম্ভব নয়। একটি বাড়ির বৈদ্যুতিক সমস্যা, পানির পাইপ মেরামত, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ত্রুটি কিংবা শিল্পকারখানার বিশেষায়িত মেশিন মেরামতের ক্ষেত্রে দক্ষ মানুষের প্রয়োজন থাকবে।
তাই ইলেকট্রিশিয়ান, প্লাম্বার, HVAC টেকনিশিয়ান, মেশিন মেকানিক, ওয়েল্ডার এবং বিভিন্ন ধরনের কারিগরি বিশেষজ্ঞের চাহিদা আগামী দিনেও থাকবে।
তবে এসব পেশাতেও প্রযুক্তি যুক্ত হবে। ফলে আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার, ডিজিটাল ডায়াগনস্টিক এবং নতুন প্রযুক্তির প্রশিক্ষণ নেওয়া জরুরি।
কৃষিতেও আসছে প্রযুক্তির বিপ্লব
বাংলাদেশের কৃষি খাতও প্রযুক্তির বাইরে থাকবে না। স্যাটেলাইট ডেটা, ড্রোন, সেন্সর, আবহাওয়ার তথ্য ও এআই ব্যবহার করে কৃষিতে উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
এর ফলে অ্যাগ্রিটেক বিশেষজ্ঞ, কৃষি-ডেটা বিশ্লেষক, ড্রোন অপারেটর, স্মার্ট-ফার্মিং টেকনিশিয়ান এবং কৃষি প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে।
কৃষি ও প্রযুক্তির সমন্বয় বাংলাদেশের জন্য বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সীমিত জমিতে উৎপাদন বাড়াতে প্রযুক্তির ব্যবহার ক্রমেই অপরিহার্য হয়ে উঠছে।
কোন চাকরিগুলো ঝুঁকিতে?
চাকরির বাজারে পরিবর্তনের অর্থ এই নয় যে নির্দিষ্ট কোনো পেশা একদিনে পুরোপুরি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। বরং অনেক পেশায় মানুষের কাজের ধরন বদলে যাবে।
বিশেষ করে ডেটা এন্ট্রি, সাধারণ ক্ল্যারিক্যাল কাজ, রুটিন হিসাবরক্ষণ, ক্যাশিয়ার, সাধারণ প্রশাসনিক সহায়তা, প্রাথমিক কাস্টমার সাপোর্ট এবং পুনরাবৃত্তিমূলক উৎপাদনকাজ অটোমেশনের চাপে পড়তে পারে।
সাধারণ কনটেন্ট তৈরি, অনুবাদ বা প্রাথমিক তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রেও এআইয়ের ব্যবহার বাড়ছে। ফলে এসব কাজের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের প্রযুক্তি ব্যবহার ও বিশেষায়িত দক্ষতা অর্জন করতে হবে।
বাংলাদেশের পোশাক খাতে বড় পরিবর্তন
বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান কর্মসংস্থান ও রপ্তানি খাত তৈরি পোশাক। কিন্তু এই খাতেও অটোমেশন দ্রুত বাড়ছে।
স্বয়ংক্রিয় কাটিং, কম্পিউটারাইজড সেলাই, ডিজিটাল কোয়ালিটি কন্ট্রোল ও আধুনিক উৎপাদনব্যবস্থার কারণে কিছু কম-দক্ষ কাজের প্রয়োজন কমতে পারে।
এ অবস্থায় শ্রমিকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে পুনঃদক্ষতা অর্জন বা reskilling। মেশিন পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, কোয়ালিটি কন্ট্রোল, ডিজিটাল উৎপাদন ব্যবস্থাপনা ও প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রশিক্ষণ তাদের কর্মসংস্থান ধরে রাখতে সাহায্য করতে পারে।
বিশেষ করে নারী শ্রমিকদের প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণে বেশি গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
ফ্রিল্যান্সিংয়ে বদলাবে খেলার নিয়ম
বাংলাদেশের তরুণদের কাছে ফ্রিল্যান্সিং দীর্ঘদিন ধরে আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস। কিন্তু এআইয়ের কারণে এই বাজারেও পরিবর্তন আসছে।
সাধারণ ডেটা এন্ট্রি, প্রাথমিক কনটেন্ট লেখা, সাধারণ অনুবাদ কিংবা সহজ গ্রাফিক ডিজাইনের মতো কাজের প্রতিযোগিতা বাড়বে। ফলে শুধু কম দামে কাজ করার কৌশল দিয়ে টিকে থাকা কঠিন হবে।
ভবিষ্যতের ফ্রিল্যান্সারকে এআই টুল ব্যবহার করে দ্রুত ও উন্নতমানের কাজ করার পাশাপাশি নির্দিষ্ট বিষয়ে বিশেষজ্ঞ হতে হবে। ওয়েব ডেভেলপমেন্ট, সাইবার নিরাপত্তা, ডেটা অ্যানালিটিকস, এআই ইন্টিগ্রেশন, ইউএক্স ডিজাইন, ভিডিও প্রোডাকশন ও বিশেষায়িত ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের মতো ক্ষেত্রে সুযোগ তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে।
শুধু প্রযুক্তি জানলেই হবে না
আগামী দশকের চাকরির বাজারের সবচেয়ে বড় শিক্ষা সম্ভবত এটাই—প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি মানবিক দক্ষতাও গুরুত্বপূর্ণ হবে।
সমস্যা সমাধান, সৃজনশীল চিন্তা, নেতৃত্ব, যোগাযোগ, দলগত কাজ, সমালোচনামূলক চিন্তা এবং দ্রুত শেখার ক্ষমতা এমন দক্ষতা, যেগুলো এআই সহজে পুরোপুরি প্রতিস্থাপন করতে পারে না।
একজন কর্মী এআইকে প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে না দেখে সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করতে পারলে তার উৎপাদনশীলতা বাড়তে পারে।
অর্থাৎ ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে প্রশ্নটি শুধু ‘এআই কি চাকরি কেড়ে নেবে?’—এমন নয়। বরং বড় প্রশ্ন হবে, ‘এআই ব্যবহার করতে পারে এমন কর্মী কি এআই ব্যবহার করতে না-পারা কর্মীকে প্রতিস্থাপন করবে?’
শিক্ষাব্যবস্থায়ও পরিবর্তন জরুরি
শ্রমবাজারের এই পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থাকেও পরিবর্তন করতে হবে। শুধু সনদনির্ভর শিক্ষা দিয়ে ভবিষ্যতের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করা কঠিন।
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় রোবোটিক্স, ইন্ডাস্ট্রিয়াল আইওটি, প্রোগ্রামিং, অটোমেশন, ডেটা বিশ্লেষণ ও ডিজিটাল মেশিন পরিচালনার মতো বিষয় যুক্ত করা প্রয়োজন।
একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ বাড়াতে হবে।
আগামী দশকের জন্য কোন দক্ষতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?
পরিবর্তিত শ্রমবাজারে টিকে থাকতে তরুণদের কয়েকটি বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন—
প্রথমত, এআই ও ডিজিটাল টুল ব্যবহারের দক্ষতা।
দ্বিতীয়ত, ইংরেজি ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগ দক্ষতা।
তৃতীয়ত, ডেটা বিশ্লেষণ ও সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা।
চতুর্থত, নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে গভীর বা বিশেষায়িত দক্ষতা।
পঞ্চমত, প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে দ্রুত নতুন দক্ষতা শেখার মানসিকতা।
কারণ আগামী দশকে একটি দক্ষতা শিখে সারাজীবন একই কাজ করার ধারণা ক্রমেই দুর্বল হবে।
পরিবর্তনের সঙ্গে কর্মীদের মানিয়ে নিতে সরকারেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। শিল্পের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষতার তথ্য সংগ্রহ, কারিগরি শিক্ষার আধুনিকায়ন, পুনঃপ্রশিক্ষণ কর্মসূচি এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের যোগাযোগ বাড়ানো প্রয়োজন।
আগামী ১০ বছরের চাকরির বাজারকে শুধু ‘মানুষ বনাম মেশিন’ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। বাস্তবতা আরও জটিল। কিছু কাজ কমবে, কিছু কাজের ধরন বদলাবে এবং একই সঙ্গে এমন অনেক নতুন পেশা তৈরি হবে, যেগুলোর কথা আজও অনেকে ভাবেননি।
‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে প্রকাশ্যে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য
সংসদীয় কমিটি থেকেও বাদ পড়লেন সেই গাজী নজরুল
শুক্রবার বন্ধ রাজধানীর যেসব মার্কেট-দর্শনীয় স্থান
বাংলাদেশেও আসতে পারে নেপালের ঢলের পানি
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় ৩ ফিলিস্তিনি নিহত
ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের নতুন কৌশল
চাদে বিমান হামলায় নিহত ১২
সিডনিতে শারীরিক সম্পর্কের সময় তরুণীর মৃত্যু
নেপাল-তিব্বতে আকস্মিক বন্যা : প্রাণহানি বেড়ে ৩৯০
রাশিয়ায় বিস্ফোরণে বাংলাদেশি নিহত