যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশের পর লেক অন্টারিওর নাম নিজেদের মানচিত্রে বদলে দিয়েছে অ্যাপল। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপল ম্যাপের ওয়েব সংস্করণে এখন ঐতিহাসিক ‘লেক অন্টারিও’র বদলে ‘লেক আমেরিকা’ নামটি দেখা যাচ্ছে।
এর আগে গুগল ম্যাপও যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীদের জন্য লেকটির নাম পরিবর্তন করে ‘লেক আমেরিকা’ দেখানো শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি জিওগ্রাফিক নেমস ইনফরমেশন সিস্টেম (জিএনআইএস)-এ নাম পরিবর্তনের পর প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের ম্যাপে তা প্রতিফলিত করেছে।
গত ২৭ আগস্ট লেক অন্টারিওর নাম পরিবর্তনের বিষয়ে নির্বাহী আদেশ জারি করেন ট্রাম্প। কানাডার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান বাণিজ্যিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত আসে। এর আগে মেক্সিকো উপসাগরের নাম পরিবর্তন করে ‘গালফ অব আমেরিকা’ করার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি।
তবে নতুন নামটি বিশ্বজুড়ে একভাবে প্রদর্শিত হচ্ছে না। যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবহারকারীরা ‘লেক আমেরিকা’ দেখলেও কানাডার ব্যবহারকারীদের কাছে এখনো ‘লেক অন্টারিও’ নামটিই রয়েছে। আন্তর্জাতিক ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে দুই নামই প্রদর্শিত হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার সীমান্তে অবস্থিত পাঁচটি গ্রেট লেকের একটি লেক অন্টারিও। এর প্রায় ৫২ শতাংশ কানাডার ভূখণ্ডে এবং বাকি অংশ যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের সঙ্গে যুক্ত। ফলে একতরফাভাবে নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্তে কানাডায় সমালোচনা তৈরি হয়েছে।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি এবং নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুল ট্রাম্পের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে লেকটির ঐতিহাসিক নাম ‘লেক অন্টারিও’ ব্যবহার অব্যাহত রাখার কথা জানিয়েছেন।
তবে ম্যাপিং সেবা ম্যাপকোয়েস্ট নাম পরিবর্তন করেনি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা প্রচলিত ‘লেক অন্টারিও’ নামই ব্যবহার করবে। এ সিদ্ধান্তের পর যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপ স্টোরে ম্যাপকোয়েস্টের জনপ্রিয়তাও বেড়েছে বলে জানা গেছে।
লেকটির নাম পরিবর্তনকে ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে যুক্তরাষ্ট্র-কানাডার সম্পর্কের টানাপোড়েন। একই সঙ্গে সরকারি সিদ্ধান্তের প্রভাবে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ডিজিটাল মানচিত্রে নাম পরিবর্তন কতটা যুক্তিসংগত, তা নিয়েও বিতর্ক শুরু হয়েছে।