মার্কিন সেনা তাড়ান, নইলে হামলা: আরব দেশগুলোকে ইরানের হুঁশিয়ারি

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম

মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলোকে তাদের ভূখণ্ড থেকে মার্কিন সেনা ও সামরিক ঘাঁটি সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইরান। অন্যথায় যুক্তরাষ্ট্রের হয়ে ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত যেকোনো ঘাঁটি ও সামরিক অবস্থানে ‘ভয়াবহ’ পাল্টা হামলা চালানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

আইআরজিসির রাজনৈতিকবিষয়ক উপপ্রধান জেনারেল ইয়াদোল্লাহ জাভানি এ সতর্কবার্তা দিয়েছেন। আধা-সরকারি ইরানি বার্তা সংস্থা তাসনিমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি আরব দেশগুলোর উদ্দেশে বলেন, নিজেদের দেশ থেকে মার্কিন সেনাদের বহিষ্কার করে সামরিক ঘাঁটিগুলো নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়াই তাদের জন্য ভালো।

জাভানি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে হামলা চালাতে যে কোনো দেশ বা ঘাঁটি ব্যবহার করা হলে সেখান থেকেই ইরান পাল্টা জবাব দেবে। এ ক্ষেত্রে কুয়েত, বাহরাইন ও জর্ডানের নাম বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি।

তার ভাষায়, ‘আমেরিকানদের নিজেদের দেশ থেকে বহিষ্কার করা এবং ঘাঁটিগুলো ফিরিয়ে নেওয়াই ভালো।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের সামরিক বাহিনী ইতোমধ্যে প্রমাণ করেছে যে ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য ব্যবহৃত যেকোনো ঘাঁটির বিরুদ্ধে তারা সিদ্ধান্তমূলক প্রতিক্রিয়া জানাতে সক্ষম।

জাভানির এই হুঁশিয়ারি এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কয়েক সপ্তাহের তুলনামূলক বিরতির পর আবারও সরাসরি হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হয়েছে। ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক হামলার পর তেহরান মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনা ও স্বার্থকে লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালানোর দাবি করেছে।

ইরানের হুমকিতে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাহরাইন ও কুয়েতের মতো দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। জর্ডানেও মার্কিন সামরিক সহযোগিতা ও ঘাঁটি রয়েছে। ফলে এসব দেশের ভূখণ্ড যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতের সরাসরি অংশ হয়ে ওঠার আশঙ্কা বাড়ছে।

ইরান এর আগে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে যেসব আঞ্চলিক ঘাঁটি বা অবকাঠামো ব্যবহৃত হবে, সেগুলোকে তারা বৈধ সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করবে। জাভানির সর্বশেষ বক্তব্য সেই অবস্থানকেই আরও কঠোরভাবে তুলে ধরেছে।

তবে আরব দেশগুলো এখন পর্যন্ত ইরানের এই হুঁশিয়ারির বিষয়ে কোনো অভিন্ন অবস্থান ঘোষণা করেনি। একই সঙ্গে তারা নিজেদের ভূখণ্ডকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সরাসরি সংঘাতের ময়দানে পরিণত না করার বিষয়েও সতর্ক রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই বার্তা মূলত উপসাগরীয় দেশগুলোর ওপর চাপ সৃষ্টি এবং যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক সামরিক অবকাঠামো ব্যবহারের সুযোগ সীমিত করার কৌশল। তবে এমন হুমকি বাস্তবায়িত হলে সংঘাত শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে পুরো উপসাগরীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়তে পারে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলার মধ্যে হরমুজ প্রণালি ঘিরে আন্তর্জাতিক উদ্বেগও বাড়ছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথটির নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে বৈশ্বিক তেল সরবরাহ ও জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

এমএজেড
আরও পড়ুন