যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বন্দ্বে চীনের সীমাবদ্ধতার প্রকাশ

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চরম অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় ইরান দীর্ঘদিন ধরে চীনকে অন্যতম ভরসা হিসেবে দেখে আসছে। তবে বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রভাব প্রতিহত করতে বেইজিং তেহরানের পাশে থাকলেও সেই সমর্থনের একটি স্পষ্ট নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ ও কঠোর নিষেধাজ্ঞার বিরোধিতা করলেও বেইজিং নিজের বৈশ্বিক স্বার্থকে সবচেয়ে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। ওয়াশিংটন এবং পারস্য উপসাগরীয় অন্যান্য দেশের সাথে নিজস্ব সম্পর্ক রক্ষায় চীন সর্বদা সতর্ক ভারসাম্য বজায় রেখে চলে।

চীন-মধ্যপ্রাচ্য সেন্টারের পরিচালক হোংদা ফান জানান, বৈশ্বিক স্বার্থে চীন মার্কিন-ইরান উত্তেজনা কমানোর মধ্যস্থতা করতে পারে। কিন্তু তেহরানের স্বার্থ রক্ষায় তারা কখনোই ওয়াশিংটনের সাথে সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি নেবে না; এই দ্বন্দের সমাধান দুই দেশকেই করতে হবে।

যদিও জ্বালানি খাত ও মার্কিনবিরোধিতায় উভয় দেশের স্বার্থ অভিন্ন, তবু বেইজিংয়ের ওপর তেহরানের নির্ভরতা তুলনামূলক অনেক বেশি। সম্প্রতি সাংহাই কোঅপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে দুই দেশের এই অসম সম্পর্কের চিত্রটি স্পষ্টভাবে ভেসে উঠেছে।

সম্মেলনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সাথে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সংক্ষিপ্ত বৈঠক হলেও বেইজিংয়ের সংবাদমাধ্যমে তা সম্পূর্ণ উপেক্ষিত থাকে। এর পরপরই শি জিনপিং মিশর সফরে গিয়ে মধ্যপ্রাচ্যে বহিরাগত হস্তক্ষেপের বিরোধিতা করেন এবং কূটনীতির জোর তাগিদ দেন।