তুরস্কভিত্তিক তিনটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞাকে তুরস্কের বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত বা বিচার হিসেবে না দেখার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটিতে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, নিষেধাজ্ঞাকে তুরস্কের ওপর কোনো ধরনের মূল্যায়ন হিসেবে দেখলে তা ‘গুরুতর ভুল’ হবে। তাঁর মতে, তুরস্কের নিজস্ব স্বার্থও এমন একটি ব্যাংকিং ব্যবস্থা নিশ্চিত করা, যা পরিচ্ছন্ন, বিশ্বস্ত এবং অপব্যবহারের সুযোগ থেকে মুক্ত।
টম ব্যারাক বলেন, ‘তুরস্কের আর্থিক ব্যবস্থার স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন নেই; প্রশ্ন উঠেছে একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ড নিয়ে।’ তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্কের সম্পর্ক কোনো একটি প্রতিষ্ঠান বা একটি দিনের ঘটনার চেয়ে অনেক বড়।
এর আগে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থ মন্ত্রণালয় তুরস্কভিত্তিক গোল্ডেন গ্লোবাল ইয়াতিরিম ব্যাংক এবং এর দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান—গোল্ডেন গ্লোবাল পোর্টফয় ইয়োনেতিমি ও গোল্ডেন গ্লোবাল ভারলিক কিরালামাকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে। প্রতিষ্ঠানগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষভাবে নিষিদ্ধ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের তালিকা (SDN List)-এ যুক্ত করা হয়েছে।
মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভিযোগ, এসব প্রতিষ্ঠান ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর–কুদস ফোর্সের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আর্থিক লেনদেনে সহায়তা করেছে। বিশেষ করে চীন থেকে ইরানের তেল বিক্রির অর্থ তুরস্কে স্থানান্তর এবং পরে তা নগদ অর্থ ও সোনায় রূপান্তরের মাধ্যমে ইরানের আর্থিক নেটওয়ার্ককে সহায়তা করার অভিযোগ করেছে ওয়াশিংটন।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেন, ইরানের ওপর ওয়াশিংটনের সর্বোচ্চ চাপ প্রয়োগের কৌশলের অন্যতম লক্ষ্য হলো তেহরানের কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত অর্থ পাচারের পথগুলো একে একে বন্ধ করা। তাঁর ভাষায়, এই নিষেধাজ্ঞা একটি প্রতিষ্ঠানের কর্মকাণ্ডকে লক্ষ্য করে নেওয়া হয়েছে—কোনো দেশ, কোনো ব্যাংকিং ব্যবস্থা কিংবা কোনো মিত্রকে লক্ষ্য করে নয়।
তিনি আরও বলেন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং নিরাপদ বাণিজ্যপথ ও যোগাযোগব্যবস্থা রক্ষার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও তুরস্ক একই পক্ষের দেশ। অতীতের কঠিন পরিস্থিতিতেও দুই দেশ একসঙ্গে কাজ করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে নিষেধাজ্ঞার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে গোল্ডেন গ্লোবাল ব্যাংক। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তারা তুরস্ক ও আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং ও কমপ্লায়েন্স বিধিমালা মেনে চলে এবং নিষেধাজ্ঞার অভিযোগের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার অধিকার প্রয়োগ করবে।
নতুন নিষেধাজ্ঞাকে ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের বিস্তৃত অর্থনৈতিক চাপের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ‘অপারেশন ইকোনমিক আউটকাস্ট’-এর আওতায় ইরানের আন্তর্জাতিক আর্থিক সংযোগ দুর্বল করতে একের পর এক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে লক্ষ্য করা হচ্ছে।
তবে তুরস্কের একটি ব্যাংককে লক্ষ্য করে নেওয়া এই পদক্ষেপের কূটনৈতিক গুরুত্বও রয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমান অভিযানের আওতায় কোনো ন্যাটো মিত্র দেশের ব্যাংককে প্রথমবারের মতো নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্যবস্তু করা হলো। ফলে আঙ্কারা-ওয়াশিংটন সম্পর্কের ওপর এর প্রভাব নিয়েও নজর রয়েছে।