ইরান যুদ্ধের তথ্য ফাঁস: মিথ্যা শনাক্তকারী পরীক্ষার মুখোমুখি ৫০ কর্মকর্তা

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৫০ এএম

ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধ নিয়ে গণমাধ্যমে তথ্য ফাঁসের অভিযোগ তদন্ত করতে মার্কিন সামরিক বাহিনীর জয়েন্ট স্টাফের প্রায় ৫০ সদস্যকে পলিগ্রাফ বা মিথ্যা শনাক্তকারী পরীক্ষার মুখোমুখি করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দ্য নিউইয়র্ক টাইমস।

সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে পত্রিকাটি জানিয়েছে, গত মাসে জয়েন্ট স্টাফের সামরিক কর্মকর্তা ও বেসামরিক কর্মীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়—তারা যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়ে কোনো তথ্য সাংবাদিকদের দিয়েছেন কি-না।

বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ কিছু গোলাবারুদের মজুত সংকটজনক পর্যায়ে নেমে এসেছে—এমন তথ্য কীভাবে গণমাধ্যমে এসেছে, তা খুঁজে বের করাই তদন্তের অন্যতম লক্ষ্য বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের সঙ্গে দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে মার্কিন সামরিক সক্ষমতার ওপর চাপ বাড়ছে—এমন খবর সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক মার্কিন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরান যুদ্ধের কারণে কিছু গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র ও গোলাবারুদের ঘাটতি তৈরি হওয়ায় পেন্টাগন প্রতিরক্ষা শিল্পকে দ্রুত উৎপাদন বাড়ানোর জন্য চাপ দিচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ তথ্য সাংবাদিকদের কাছে ফাঁস হওয়ার বিষয়টি ট্রাম্প প্রশাসনের কাছে অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে উঠেছে। তদন্তকারীরা জানতে চাইছেন, সামরিক বাহিনীর অভ্যন্তরীণ বা শ্রেণিবদ্ধ তথ্য কারা গণমাধ্যমের কাছে সরবরাহ করেছেন।

তবে পেন্টাগনের মুখপাত্র শন পারনেল নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক বিবৃতিতে নির্দিষ্ট তদন্ত বা কর্মীদের বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, প্রতিরক্ষা বিভাগ অভ্যন্তরীণ কর্মী বা তদন্তসংক্রান্ত বিষয়ে মন্তব্য করে না। তবে জাতীয় নিরাপত্তার শ্রেণিবদ্ধ তথ্য ফাঁসের সব ঘটনাকেই তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং সে অনুযায়ী তদন্ত করে।

পলিগ্রাফ পরীক্ষা সাধারণত কোনো ব্যক্তির বক্তব্যের সত্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হয়। তবে এর বৈজ্ঞানিক নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্ক রয়েছে। জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত সংস্থাগুলো অবশ্য নিরাপত্তা যাচাই ও অভ্যন্তরীণ তদন্তের ক্ষেত্রে এ ধরনের পরীক্ষা ব্যবহার করে থাকে।

জয়েন্ট স্টাফ হলো যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সামরিক নেতৃত্বের কাঠামো, যেখানে বিভিন্ন সামরিক শাখার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও কর্মীরা কাজ করেন। ফলে এই পর্যায়ের প্রায় ৫০ জনকে একসঙ্গে পলিগ্রাফ পরীক্ষার আওতায় আনার খবরটি পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ তথ্য নিয়ন্ত্রণ নিয়ে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এদিকে ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়ার বিষয়টি ইতোমধ্যে রাজনৈতিক বিতর্কেরও অংশ হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভান্ডার নিয়ে সংকটের খবরকে নাকচ করে বলেছেন, দেশের কাছে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ রয়েছে। অন্যদিকে বিভিন্ন মার্কিন সংবাদমাধ্যম ও বিশ্লেষণে গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরোধী অস্ত্রের মজুতের ওপর যুদ্ধের চাপের কথা উঠে এসেছে।

এমন পরিস্থিতিতে পেন্টাগনের লিক তদন্ত শুধু কে তথ্য ফাঁস করেছেন, তা শনাক্ত করার প্রচেষ্টা নয়; বরং যুদ্ধের প্রকৃত সামরিক ব্যয়, অস্ত্রের মজুত এবং যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধক্ষমতা নিয়ে প্রশাসনের ভেতরের তথ্য কতটা বাইরে যাচ্ছে, সেটিও সামনে নিয়ে আসছে।

তবে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট কর্মকর্তা তথ্য ফাঁস করেছেন বলে প্রকাশ্যে অভিযুক্ত হয়েছেন বা পলিগ্রাফ পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে—এমন তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তদন্তের চূড়ান্ত ফল না আসা পর্যন্ত বিষয়টি অভিযোগ ও অনুসন্ধানের পর্যায়েই রয়েছে।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন