ইরানের ভূগর্ভস্থ পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার হুমকি ট্রাম্পের

ইরানের পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে শিগগিরই যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালাতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বলে সন্দেহ করা এই দুর্গম ও ভূগর্ভস্থ স্থাপনাকে ঘিরে এর আগেও হামলার হুমকি দিয়েছিলেন তিনি।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা খুব শিগগিরই পিকঅ্যাক্সে হামলা চালাতে পারি।’ সেখানে কোনো ধরনের কর্মকাণ্ড চললে যুক্তরাষ্ট্র তা লক্ষ্য করে হামলা চালাবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন ইরানের নাতাঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ স্থাপনার কাছে অবস্থিত। এটি একটি অত্যন্ত সুরক্ষিত এলাকা, যেখানে মাটির অনেক গভীরে নির্মিত দুটি টানেল কমপ্লেক্স রয়েছে। গভীর ভূগর্ভে অবস্থানের কারণে স্থাপনাটি সামরিক হামলার ক্ষেত্রে তুলনামূলকভাবে কঠিন লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হয়।

পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন নিয়ে ট্রাম্প এর আগেও একাধিকবার হামলার হুমকি দিয়েছেন। গত জুলাইয়ে তিনি বলেছিলেন, ওই এলাকায় যুক্তরাষ্ট্র ‘খুব শিগগিরই এবং খুব ব্যাপকভাবে’ হামলা চালাবে। সে সময় ট্রাম্প স্বীকার করেছিলেন, সেখানে ইরান পারমাণবিক কাজে ব্যবহৃত সেন্ট্রিফিউজ সরিয়েছে—এমন বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে নিশ্চিত প্রমাণ নেই।

ইসরায়েলি গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে এর আগে বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, ইরান নাতাঞ্জের কাছের এই সুরক্ষিত স্থাপনায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে ব্যবহৃত সেন্ট্রিফিউজ সরিয়ে নিয়ে থাকতে পারে। তবে ইরান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে কোনো পারমাণবিক কার্যক্রম চলছে না এবং ইরানের সব পারমাণবিক কার্যক্রম আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (IAEA) কাছে ঘোষিত।

ট্রাম্প শুক্রবার আরও দাবি করেন, পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে কী ধরনের কর্মকাণ্ড চলছে এবং সেখানে কারা চলাচল করছে, সে বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যাপক গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। মহাকাশ প্রযুক্তি ও ইউএস স্পেস ফোর্সের সক্ষমতার কারণে ওই এলাকার ওপর নজরদারি করা সম্ভব হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

ট্রাম্পের নতুন হুমকি এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক মাস ধরে চলা সামরিক সংঘাত নতুন করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। এর মধ্যেই ট্রাম্প সংঘাতকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ না বলে ‘সামরিক সংঘাত’ হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য ‘ছোট বিষয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে এ সংঘাতে এখন পর্যন্ত ১৮ মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে হামলা হলে ইরানের পারমাণবিক অবকাঠামো ঘিরে সংঘাত আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষ করে গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনাটিকে লক্ষ্য করে সামরিক অভিযান চালানো হলে এর প্রভাব শুধু ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে কি না, তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হতে পারে।

তবে ট্রাম্পের ঘোষণাটি এখনো সম্ভাব্য হামলার হুমকি হিসেবেই রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র কবে বা কী ধরনের সামরিক অভিযান চালাবে, সে বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা হয়নি।