‘মাঝেমধ্যে এমন ঘটনা ঘটে’, ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলা নিয়ে ভ্যান্স

আপডেট : ০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৩০ এএম

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কুহেস্তাক শহরে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলায় বেসামরিক মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনায় সংশয় প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। ইরানের পক্ষ থেকে দেওয়া হামলার বর্ণনা তিনি বিশ্বাস করেন না বলে জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে ভ্যান্স বলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তাঁর কাছে নতুন কোনো তথ্য নেই। তবে ইরানের বর্ণনা নিয়ে তিনি ‘চরমভাবে সন্দিহান’। একই সঙ্গে তিনি বলেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী কখনো ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে না। ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

হামলার বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে মার্কিন হামলার কারণে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স বলেন, ‘মাঝেমধ্যে এমন ঘটনা ঘটে।’ তাঁর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রে সমালোচনাও শুরু হয়েছে। সমালোচকদের কেউ কেউ অভিযোগ করেছেন, বেসামরিক হতাহতের ঘটনাকে খাটো করে দেখানোর দীর্ঘদিনের মার্কিন সরকারি প্রবণতার সঙ্গে ভ্যান্সের বক্তব্যের মিল রয়েছে।

গত মঙ্গলবার ইরানের হরমোজগান প্রদেশের কুহেস্তাকে একটি বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ইরানি কর্মকর্তাদের মতে, এতে প্রথমে চারজন নিহত এবং প্রায় ৭০ জন আহত হন। পরে আহতদের একজনের মৃত্যু হলে নিহতের সংখ্যা পাঁচে পৌঁছায় বলে রয়টার্স জানিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ওই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ঘটনাটি সম্পর্কে তারা অবগত এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে। মার্কিন বাহিনীর অবস্থান হলো—সামরিক অভিযানে তারা ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করে না।

তবে রয়টার্সের আলাদা অনুসন্ধানে ঘটনাটি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উঠে এসেছে। ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিও এবং অস্ত্রবিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে রয়টার্স বলেছে, বিস্ফোরণটি একটি মার্কিন অস্ত্রের সরাসরি আঘাতে হয়ে থাকার সম্ভাবনাই বেশি। বিশ্লেষণে এটিকে কোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাতের পর ছিটকে যাওয়া বিস্ফোরণ বা ইরানি আকাশ প্রতিরক্ষার অস্ত্রের কারণে সৃষ্ট বিস্ফোরণ হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে সামরিক ও যোগাযোগ অবকাঠামোয় হামলা চালাচ্ছিল। যে স্থানে বিয়ের অনুষ্ঠান হচ্ছিল, সেটির কাছাকাছি একটি যোগাযোগ স্থাপনাও মার্কিন হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলাটি ইচ্ছাকৃত ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ভ্যান্সের বক্তব্যের সমালোচকেরা বলছেন, সামরিক অভিযানে বেসামরিক প্রাণহানির অভিযোগ উঠলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন অতীতেও অনেক ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে দায় অস্বীকার, তথ্য নিয়ে সংশয় প্রকাশ কিংবা ঘটনাটিকে অনিচ্ছাকৃত ক্ষতি হিসেবে ব্যাখ্যা করেছে। কুহেস্তাকের ঘটনাকে ঘিরে বর্তমান বিতর্কও সেই বৃহত্তর প্রশ্নকে সামনে এনেছে—সামরিক অভিযানে বেসামরিক প্রাণহানির দায় কীভাবে নির্ধারণ করা হবে এবং তদন্ত কতটা স্বচ্ছ হবে।

অন্যদিকে মার্কিন প্রশাসন বলছে, ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন। ফলে হামলাটি কীভাবে ঘটেছে, কোন অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল এবং বেসামরিক হতাহতের জন্য কার দায়—এসব প্রশ্নের চূড়ান্ত উত্তর তদন্ত শেষ হওয়ার পরই পাওয়া যাবে।

ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে এই প্রাণহানি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের বেসামরিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি ওয়াশিংটন-তেহরান সংঘাতের মধ্যে মানবিক ক্ষয়ক্ষতির প্রশ্নটিকেও আরও সামনে নিয়ে এসেছে।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন