দক্ষিণ আটলান্টিক মহাসাগরের বিতর্কিত ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জে শুরু হওয়া তেল উত্তোলন প্রকল্পকে কেন্দ্র করে ফের চরম উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক।
সম্প্রতি আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে জানান, দেশের অনুমতি ছাড়া ফকল্যান্ড সংলগ্ন সমুদ্রসীমায় কোনো বিদেশি কোম্পানি তেল উত্তোলন করলে কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও বড় অঙ্কের জরিমানা করা হবে।
এই নতুন উত্তেজনার কেন্দ্রে রয়েছে ফকল্যান্ডের অন্যতম সমৃদ্ধ ‘সি লায়ন’ নামক তেলখনি, যেখানে পূর্ণ উদ্যমে জ্বালানি উত্তোলনের তোড়জোড় চালাচ্ছে যুক্তরাজ্য।
আর্জেন্টিনা থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত এই দ্বীপপুঞ্জটিকে নিজেদের দাবি করে বুয়েনস আইরেস এবং এর নামকরণ করেছে ‘ইসলাস মালভিনাস’। বিপরীতে ১৮৩৩ সাল থেকে ভৌগোলিক ও প্রশাসনিকভাবে দ্বীপটি লন্ডনের প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৯৮২ সালে দ্বীপটির সার্বভৌমিকত্ব প্রতিষ্ঠায় গিয়ে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ৭৪ দিনের এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হয় আর্জেন্টিনা।
ওই সংঘাতময় যুদ্ধে প্রায় ৯০০ সেনাসদস্যের প্রাণহানি ঘটেছিল, যার দাগ এখনও দুই দেশের সম্পর্কে স্পষ্ট। পরবর্তীতে ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক গণভোটে দ্বীপটির প্রায় শতভাগ বাসিন্দা যুক্তরাজ্যের নাগরিক হিসেবে থাকার পক্ষে রায় দেন।
তবে আর্জেন্টিনা শুরু থেকেই ওই গণভোটকে অবৈধ ও আন্তর্জাতিক আইনবহির্ভূত বলে দাবি করে তার সার্বভৌমত্বের দাবি ধরে রেখেছে। জাতিসংঘ বহু বছর ধরে উভয় দেশকে আলোচনার টেবিলে সমঝোতার আহ্বান জানালেও খনিজ সম্পদের বিপুল মজুত থাকায় বিরোধের নিরসন থমকে গেছে।
বর্তমান ভূ-রাজনীতিতে চীন উন্মুক্তভাবে আর্জেন্টিনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্রও বিষয়টি পর্যবেক্ষণে রাখায় ফকল্যান্ডকে কেন্দ্র করে নতুন বৈশ্বিক সমীকরণ তৈরি হচ্ছে।
সূত্র: রয়টার্স।