প্লাস্টিক সার্জারির পর চেহারা পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে না মেলায় দক্ষিণ কোরিয়ার বিমানবন্দরে তিন চীনা নারী আটকা পড়েছেন, ২০১৭ সালে এমন একটি দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছিল। তবে পরে দক্ষিণ কোরিয়ার কর্তৃপক্ষ জানায়, ঘটনাটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও ভুয়া।
ভাইরাল ছবিতে তিন নারীকে মুখ ফুলে যাওয়া ও ব্যান্ডেজ বাঁধা অবস্থায় পাশাপাশি বসে থাকতে দেখা যায়। তাদের হাতে পাসপোর্টও ছিল। ছবির সঙ্গে ছড়ানো দাবিতে বলা হয়, চীনের জাতীয় দিবসের ছুটিতে তারা দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়ে প্লাস্টিক সার্জারি করিয়েছিলেন। অস্ত্রোপচারের পর চেহারায় এতটাই পরিবর্তন আসে যে পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে তাদের মিলিয়ে পরিচয় নিশ্চিত করতে পারছিলেন না বিমানবন্দর কর্মকর্তারা।
দাবিটি আরও ছড়িয়ে পড়ে চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইবোতে টেলিভিশন উপস্থাপক জিয়ান হুয়াহুয়ার একটি পোস্টের মাধ্যমে। ২০১৭ সালের ১০ অক্টোবর তিনি ছবিটি প্রকাশ করে দাবি করেন, দক্ষিণ কোরিয়ার একটি বিমানবন্দরে প্লাস্টিক সার্জারি করানো একদল চীনা নারী দেশে ফেরার ফ্লাইটে উঠতে পারছেন না এবং পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। পরে পোস্টটি মুছে দেওয়া হয়।
এরপর বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ছবিটি ব্যবহার করে ঘটনাটির সঙ্গে নতুন নতুন তথ্য যুক্ত করে। কোথাও বলা হয়, পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে চেহারা না মেলায় তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল, আবার কোথাও দাবি করা হয়, পরিচয় নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের দেশে ফেরার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
তবে অনুসন্ধানের পর দক্ষিণ কোরিয়ার বিচার মন্ত্রণালয় জানায়, এমন কোনো ঘটনার তথ্য তাদের কাছে নেই। দেশটির কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে তথ্যভিত্তিহীন ভুয়া খবর হিসেবে আখ্যায়িত করে।
এমনকি ছবিটি বিমানবন্দরে তোলা হয়েছিল, এই দাবিরও সত্যতা পাওয়া যায়নি। সে সময় চীনা সংবাদমাধ্যমের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, ছবিটি বিমানবন্দরের বদলে একটি শুল্কমুক্ত দোকানে তোলা হয়েছিল।
ঘটনাটি আরও বিশ্বাসযোগ্য মনে হওয়ার অন্যতম কারণ ছিল দক্ষিণ কোরিয়ার জনপ্রিয় প্লাস্টিক সার্জারি শিল্প। চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে বহু মানুষ দেশটিতে প্রসাধনী অস্ত্রোপচারের জন্য যেতেন। ফলে বাস্তব একটি প্রবণতার সঙ্গে একটি ভাইরাল ছবির কাল্পনিক গল্প জুড়ে দিয়ে ঘটনাটিকে সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছিল।
অর্থাৎ, প্লাস্টিক সার্জারির কারণে চেহারা পাসপোর্টের ছবির সঙ্গে না মেলায় তিন চীনা নারী দক্ষিণ কোরিয়ার বিমানবন্দরে আটক হয়েছিলেন, বহুল প্রচারিত এই দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই। বরং দক্ষিণ কোরিয়ার কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে ভুয়া খবর হিসেবে প্রত্যাখ্যান করেছিল।