ইয়েমেনের যুদ্ধ এখন আধিপত্যের লড়াই: নাবিল খৌরি

ইয়েমেনে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক কূটনীতিক ও দেশটিতে মার্কিন মিশনের সাবেক প্রধান নাবিল খৌরির মতে, দেশটির দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত এখন আর শুধু অভ্যন্তরীণ যুদ্ধের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। এটি মধ্যপ্রাচ্যে প্রভাব ও আধিপত্য বিস্তারের বৃহত্তর আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার অংশ হয়ে উঠেছে।

আল জাজিরাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে খৌরি বলেন, সৌদি সীমান্তসংলগ্ন আল-জাওফ বর্তমানে সৌদি আরব-সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীর স্থল অভিযানের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। অঞ্চলটি সৌদি আরবের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহপথ হওয়ায় এর নিয়ন্ত্রণ সামরিকভাবে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ।

তিনি বলেন, এক দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধের পর ইয়েমেনের মানুষের জন্য দেশ পরিচালনা, ক্ষমতা ভাগাভাগি এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুষ্ঠু বণ্টনের মতো অভ্যন্তরীণ সংকট সমাধানই অগ্রাধিকার পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা সেই প্রক্রিয়াকে বারবার বাধাগ্রস্ত করছে।

খৌরি এই সংঘাতকে বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতার অংশ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, একদিকে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও তাদের সমর্থনকারী কয়েকটি উপসাগরীয় দেশ রয়েছে; অন্যদিকে ইরান ও তাদের সমর্থিত ‘প্রতিরোধ অক্ষ’। এই অক্ষের সঙ্গে হামাস, হিজবুল্লাহ ও হুথিদের সম্পৃক্ততার কথা বলা হয়।

ইয়েমেনে বিদেশি শক্তির হস্তক্ষেপ অবশ্য নতুন নয়। সৌদি আরব, ইরান, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ দীর্ঘদিন ধরে দেশটির রাজনৈতিক ও সামরিক সংঘাতে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত।

এদিকে আল-জাওফ, তাইজ ও আল-বাইদাসহ বিভিন্ন এলাকায় সরকারি বাহিনী ও হুথিদের মধ্যে সংঘর্ষ আবারও তীব্র হয়েছে। রাজধানী সানা পুনর্দখলের লক্ষ্য নিয়ে সৌদি-সমর্থিত বাহিনী স্থল অভিযান জোরদার করেছে বলে সরকারি পক্ষ দাবি করছে।

সব মিলিয়ে ইয়েমেনের যুদ্ধ আবারও নতুন মাত্রা পাচ্ছে। অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংকটের সঙ্গে আঞ্চলিক শক্তির প্রতিদ্বন্দ্বিতা যুক্ত হওয়ায় দেশটির দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত আরও জটিল হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।