মার্কিন শীর্ষ কূটনীতিকের সকর্তবার্তা

তাইওয়ানে সংঘাত হলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চেয়েও বড় প্রভাব পড়বে

তাইওয়ানে কোনো ধরনের সংঘাত হলে বিশ্ব অর্থনীতিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চেয়েও বড় প্রভাব পড়বে বলে সতর্ক করেছেন তাইপেতে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ কূটনীতিক রেমন্ড গ্রিন। চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ওয়াশিংটন সফরের কয়েক সপ্তাহ আগে এমন সতর্কবার্তা দিলেন তিনি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) তাইপেতে একটি প্রতিরক্ষা ফোরামে বক্তব্য দেওয়ার সময় আমেরিকান ইনস্টিটিউট ইন তাইওয়ানের পরিচালক রেমন্ড গ্রিন বলেন, তাইওয়ানে শান্তি কীভাবে নিশ্চিত করা যায়; এ মুহূর্তে এর চেয়ে সময়োপযোগী ও গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় নেই। তিনি বলেন, আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র-চীন শীর্ষ সম্মেলন ভুল বোঝাবুঝি ও ভুল হিসাব এড়ানোর একটি সুযোগ তৈরি করেছে।

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং চলতি মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র সফর করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। গ্রিন বলেন, আসন্ন যুক্তরাষ্ট্র-চীন শীর্ষ সম্মেলন ন্যায্যতা ও পারস্পরিকতার ভিত্তিতে কৌশলগত স্থিতিশীলতার সম্পর্ক আরও এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ। এর মাধ্যমে ভুল বোঝাবুঝি ও ভুল হিসাব এড়ানো সম্ভব।

অধিকাংশ দেশের মতো যুক্তরাষ্ট্রেরও চীনের দাবিকৃত তাইওয়ানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই। তবে গণতান্ত্রিকভাবে পরিচালিত দ্বীপটির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমর্থক ও অস্ত্র সরবরাহকারী দেশ যুক্তরাষ্ট্র। গ্রিন বলেন, মানবিক ক্ষয়ক্ষতির বাইরে, তাইওয়ানে যে কোনো সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের চেয়েও বড় প্রভাব ফেলবে।

তিনি আরও বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি বজায় রাখাকে অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে বিশেষ করে সর্বোচ্চ পর্যায়ে জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চালানো হচ্ছে বলে জানান তিনি। গ্রিন বলেন, আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য অনুকূলে রাখতে এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের উপস্থিতি ও অংশীদারত্বও জোরদার করছে। তিনি বলেন, তৃতীয়ত এবং আজকের আলোচনার জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তাইওয়ান যাতে নিজেদের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে পারে, সে প্রচেষ্টায় আমরা তাদের সহায়তা করছি।

চীনের পক্ষ থেকে তাইওয়ানের ওপর সার্বভৌমত্বের দাবি প্রত্যাখ্যান করে আসছে দ্বীপটির সরকার। একই সঙ্গে চীনের সম্ভাব্য হুমকির কথা উল্লেখ করে তাইওয়ানের প্রেসিডেন্ট উইলিয়াম লাই চিং-তে’র প্রশাসন প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো ও সামরিক আধুনিকায়নকে অগ্রাধিকার দিয়েছে। আগামী বছরের জন্য তাইওয়ান সরকার প্রথমবারের মতো ১ ট্রিলিয়ন তাইওয়ান ডলার বা প্রায় ৩১ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি প্রতিরক্ষা বাজেট নির্ধারণ করেছে।
সূত্র : আলজাজিরা