নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতায় নতুন সংযোজন হিসেবে ‘কাসেম বশির’ নামে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন করেছে ইরান। দেশটির সামরিক সক্ষমতার সর্বশেষ সংযোজন হিসেবে ক্ষেপণাস্ত্রটির পরিচয় তুলে ধরা হয়েছে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে নিজস্ব প্রযুক্তিতে সামরিক সরঞ্জাম ও ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির ওপর গুরুত্ব দিয়ে আসছে। নতুন এই ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচনের মধ্য দিয়ে তেহরান আবারও তাদের দেশীয় প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়ন এবং কৌশলগত প্রতিরোধ সক্ষমতা জোরদারের বিষয়টি সামনে আনল।
ইরানের সামরিক নীতিতে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দেশটির দাবি, আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সম্ভাব্য সামরিক হুমকি মোকাবিলায় শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা তাদের কৌশলগত প্রতিরোধের অন্যতম প্রধান উপাদান।
নতুন ‘কাসেম বশির’ ক্ষেপণাস্ত্রের উন্মোচনও সেই বৃহত্তর নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে ক্ষেপণাস্ত্রটির পাল্লা, ওয়ারহেডের সক্ষমতা, নির্ভুলতা ও অন্যান্য কারিগরি বৈশিষ্ট্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইরান সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ড্রোন, ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রসহ বিভিন্ন ধরনের সামরিক প্রযুক্তিতে দেশীয় সক্ষমতা বাড়ানোর দাবি করে আসছে। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও প্রযুক্তি আমদানির সীমাবদ্ধতার মধ্যেও নিজস্ব প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলাকে তেহরান জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচনা করে।
নতুন ক্ষেপণাস্ত্রটির নামকরণও ইরানের সামরিক ঐতিহ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। ‘কাসেম’ নামটি দেশটির সাবেক সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানির নামের সঙ্গে সম্পর্কিত কি না, সে বিষয়ে উন্মোচনের তথ্যের ভিত্তিতে নিশ্চিত মন্তব্য করা যাচ্ছে না।
নতুন অস্ত্রের প্রদর্শন এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা তীব্র এবং ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা আঞ্চলিক নিরাপত্তা আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
তেহরানের বার্তা স্পষ্ট—বহিরাগত চাপ ও নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ইরান তার নিজস্ব সামরিক প্রযুক্তি উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে চায়। আর দেশটির দৃষ্টিতে এই সক্ষমতার মূল লক্ষ্য হলো সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে কৌশলগত প্রতিরোধ ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা।