চীনের কিংদাও বন্দরে মেরামতের জন্য নোঙর করা একটি বিদেশি পতাকাবাহী কার্গো জাহাজে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে।
কিংদাওয়ের বেইহাই শিপবিল্ডিং ইয়ার্ডে নোঙর করা লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী ওশান মেলোডি নামের বাল্ক ক্যারিয়ারটিতে আগুন লাগার সময় ৪২ জন আরোহী ছিলেন। তাদের মধ্যে আহত পাঁচজনসহ ১৭ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। পরে জাহাজটি থেকে ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়ার তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা ১৫ মিনিটের দিকে জাহাজটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। প্রায় দুই ঘণ্টা পর বেলা দেড়টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
অগ্নিকাণ্ডের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। সিনহুয়া জানিয়েছে, শানডং প্রদেশের কিংদাওয়ে অবস্থিত বেইহাই শিপবিল্ডিং কোম্পানির ইয়ার্ডে মেরামতের জন্য জাহাজটি ভেড়ানো হয়েছিল।
ঘটনার পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দ্রুত উদ্ধার তৎপরতা চালানোর নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তদন্ত করে তা দূর করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
কাছাকাছি একটি আবাসিক এলাকার এক প্রত্যক্ষদর্শী বার্তা সংস্থা এএফপিকে জানান, তিনি জাহাজ থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হতে দেখেছেন। তবে কোনো বিস্ফোরণের শব্দ বা পোড়া গন্ধ পাননি। তার ভাষ্য, হঠাৎ করেই জাহাজ থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়, যদিও দূর থেকে আগুনের শিখা চোখে পড়েনি।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রকাশিত ছবিতে জাহাজটির সামনে বেশ কয়েকটি অগ্নিনির্বাপণকারী গাড়ি দেখা গেছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট মেরিনট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, ওশান মেলোডি প্রায় ১৯০ মিটার দীর্ঘ একটি বাল্ক ক্যারিয়ার।
চীনের অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক কেন্দ্র কিংদাও বিশ্বের ১৮০টিরও বেশি দেশ ও অঞ্চলের ৭০০টির বেশি বন্দরের সঙ্গে সমুদ্রপথে যুক্ত। বেইহাই শিপবিল্ডিং ইয়ার্ডটি চায়না স্টেট শিপবিল্ডিং করপোরেশনের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান।
অগ্নিকাণ্ডের এই ঘটনা চীনে সাম্প্রতিক শিল্প দুর্ঘটনার ধারাবাহিকতার মধ্যেই ঘটল। গত আগস্টে ফুজিয়ান প্রদেশের একটি শিপইয়ার্ডে বিস্ফোরণ ও আগুনে একজন উদ্ধারকর্মী নিহত এবং ১২ জন আহত হন। চলতি বছরের মে মাসে দেশটির মধ্যাঞ্চলের একটি আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণে ৩৭ জন নিহত হন। এর আগে জুলাইয়ে ফুজিয়ানের একটি জুতার কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২৮ জনের মৃত্যু হয়।