হরমুজের কাছে সাগরে স্যাটেলাইট ছবিতে যা দেখা যাচ্ছে

হরমুজ প্রণালির কাছে সমুদ্রের পানিতে তেলের আস্তরণের চিহ্ন দেখা গেছে স্যাটেলাইটের ছবিতে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের কোপার্নিকাস কর্মসূচির স্যাটেলাইট চিত্র বিশ্লেষণ করে এমন তথ্য জানিয়েছে ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপি।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ধারণ করা একটি স্যাটেলাইট ছবিতে ইরানের উপকূল থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে সমুদ্রের পানিতে বাদামি রঙের লম্বাটে রেখা দেখা যায়। স্থানটি হরমুজ প্রণালির পূর্ব দিকে অবস্থিত।

পরদিন বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) একই এলাকার আরেকটি স্যাটেলাইট ছবিতেও প্রায় একই দৈর্ঘ্যের আঁকাবাঁকা কয়েকটি রেখা দেখা যায়। ছবিগুলো বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় এএফপি জানিয়েছে, এসব রেখা সমুদ্রের পানিতে ছড়িয়ে পড়া তেলের আস্তরণ বা অয়েল স্লিক হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি।

হরমুজ প্রণালির কাছে এই তেলের আস্তরণ দেখা দেওয়ার ঘটনা এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজকে লক্ষ্য করে যুক্তরাষ্ট্র হামলা চালিয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর ওই অঞ্চলে সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে কোনো জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার প্রভাব শুধু আঞ্চলিক পরিবেশের ওপর নয়, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহব্যবস্থার ওপরও পড়তে পারে।

এএফপির বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা তেলের দাগগুলো যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর তেলবাহী জাহাজ থেকে ছড়িয়ে পড়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে শুধু স্যাটেলাইট চিত্রের ভিত্তিতে তেলের নির্দিষ্ট উৎস বা কোন জাহাজ থেকে তা ছড়িয়েছে, সেটি নিশ্চিতভাবে শনাক্ত করা যায়নি।

হরমুজ প্রণালি বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পরিবহনে এই জলপথ ব্যবহার করা হয়। ফলে এখানে সামরিক সংঘাত বা জাহাজ চলাচলে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে তার প্রভাব পড়তে পারে।

সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। প্রাথমিক ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার মাত্র সাতটি জাহাজ প্রণালিটি অতিক্রম করেছে, যেখানে আগের দিন এই সংখ্যা ছিল ১১টি এবং ১০ দিনের গড় ছিল প্রায় ১৫টি। তবে জাহাজ চলাচলের এই হিসাবও চূড়ান্ত নয়। কিছু জাহাজ ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রাখায় সেগুলো সরকারি ট্র্যাকিং তথ্যে অন্তর্ভুক্ত হয়নি।

স্যাটেলাইটে তেলের আস্তরণ শনাক্ত হওয়ার ঘটনা পরিস্থিতিতে নতুন উদ্বেগ যোগ করেছে। সমুদ্রপৃষ্ঠে তেল ছড়িয়ে পড়লে সামুদ্রিক পরিবেশ, মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে তেল পরিষ্কার করাও জটিল ও ব্যয়বহুল প্রক্রিয়া।

বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় এএফপির বিশ্লেষণ স্যাটেলাইট ছবিতে তেলের উপস্থিতির সম্ভাবনাকে জোরালো করলেও এর পরিমাণ, উৎস এবং পরিবেশগত ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণে আরও তথ্য প্রয়োজন।

তবে হরমুজে সামরিক উত্তেজনা, তেলবাহী জাহাজে হামলা, কমে যাওয়া জাহাজ চলাচল এবং এখন সমুদ্রপৃষ্ঠে তেলের আস্তরণ—সব মিলিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিরাপত্তা ও পরিবেশগত ঝুঁকি একই সঙ্গে বাড়ছে।