সৌদি আরবের একটি তেল পাইপলাইনে হামলার পর ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলীয় মায়সান প্রদেশে নিরাপত্তা পরিস্থিতি জোরদার করা হয়েছে। হামলার উৎস হিসেবে ওই প্রদেশের মায়সান অপারেশনাল কমান্ডের এলাকা চিহ্নিত হওয়ার পর সেখানে বিপুলসংখ্যক ভারী অস্ত্রধারী নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আল-জায়েদি হামলার ঘটনার পরপরই একটি তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা দিয়েছেন। কমিটিকে মায়সান অপারেশনাল কমান্ডের কার্যক্রম তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় ওই এলাকার অপারেশনাল কমান্ডারকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সীমান্ত পারাপারের কয়েকটি পয়েন্ট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সম্ভাব্য হামলাকারীরা যাতে ইরানমুখী হয়ে পালিয়ে যেতে না পারে, সে উদ্দেশ্যেই সীমান্ত বন্ধ করা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আল-জাজিরার বাগদাদ প্রতিনিধি জ্যাক হিউসনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মায়সানের বিভিন্ন সড়কে ভারী অস্ত্র বহনকারী নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের দেখা গেছে। তবে তারা হামলার সঙ্গে জড়িত কোনো নির্দিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে অভিযান চালাতে মোতায়েন হয়েছে কি না, তা এখনও পরিষ্কার নয়। এটি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের শক্ত অবস্থান প্রদর্শনের একটি উদ্যোগও হতে পারে।
সৌদি আরবের পাইপলাইনে হামলার ঘটনায় ইরাক সরকার তাৎক্ষণিকভাবে নিন্দা জানিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, এ ধরনের ঘটনা যাতে আর না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে ইরাকি সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।
মায়সান ইরাকের দক্ষিণাঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রদেশ এবং ইরানের সীমান্তবর্তী হওয়ায় সাম্প্রতিক ঘটনাটি বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। সীমান্ত বন্ধ ও নিরাপত্তা জোরদারের মাধ্যমে ইরাকি কর্তৃপক্ষ হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের গতিবিধি শনাক্ত ও সম্ভাব্য পালানোর পথ বন্ধ করার চেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
তবে সৌদি পাইপলাইনে হামলার জন্য কারা দায়ী এবং মায়সান থেকে হামলাটি পরিচালিত হওয়ার পেছনে কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর ভূমিকা ছিল কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয়।
ঘটনার পর মায়সানে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতি বৃদ্ধি এবং সীমান্তপথ বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ইরাকের জন্যও নতুন নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। একই সঙ্গে সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার ঘটনাটি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা বাড়িয়েছে।