নতুন 'বিশ্ব মানচিত্র' নিয়ে ভারতসহ ৩ দেশের আপত্তি, কারণ কী?

বিশ্বের মহাদেশগুলোর প্রকৃত আয়তন সঠিকভাবে ফুটিয়ে তুলতে নতুন একটি বিশ্ব মানচিত্র ব্যবহারের আহ্বানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে (UNGA) এক ঐতিহাসিক প্রস্তাব গৃহীত হয়েছে।

আফ্রিকার জোট আফ্রিকান ইউনিয়নের (AU) দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর আনা এই প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিয়েছে ১৬৪টি দেশ। তবে ভোটদান থেকে বিরত ছিল ৬টি দেশ, আর একমাত্র দেশ হিসেবে প্রকাশ্যে এর বিরোধিতা করেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র।

এত দিন প্রচলিত 'মার্কেটর প্রজেকশন' (Mercator projection) মানচিত্রে মেরু অঞ্চলের কাছের দেশগুলোকে বিশালাকার এবং বিষুবরেখার কাছের আফ্রিকাসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোকে অনেক ছোট করে দেখানো হতো। উদাহরণস্বরূপ, সেই মানচিত্রে গ্রিনল্যান্ড ও আফ্রিকা মহাদেশকে সমান দেখা গেলেও বাস্তবে আফ্রিকা গ্রিনল্যান্ডের চেয়ে ১৪ গুণ বড়! এই বৈষম্য দূর করতে ২০১৮ সালে আবিষ্কৃত ‘ইকুয়াল আর্থ প্রজেকশন’ (Equal Earth projection) মানচিত্র ব্যবহারের সুপারিশ করেছে জাতিসংঘ।

তবে জাতিসংঘের এই উদ্যোগের প্রশংসা থাকলেও ভৌগোলিক ও সীমান্ত বিরোধের কারণে তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারত, ইউক্রেন ও জাপান।

ইউক্রেনের আপত্তি

ভোটদানে বিরত থাকা ইউক্রেন জানিয়েছে, নতুন এই মানচিত্রে রাশিয়ার বেআইনি দখলে থাকা ক্রিমিয়া উপদ্বীপের রঙকে মূল ইউক্রেনের চেয়ে আলাদা করে দেখানো হয়েছে, যা দেখতে অনেকটাই রাশিয়ার রঙের কাছাকাছি। ইউক্রেনের জাতিসংঘ প্রতিনিধি আন্দ্রেই মেলনিক এটি সংশোধনের দাবি জানিয়েছেন।

জাপানের অস্বস্তি

নতুন মানচিত্রের পক্ষে ভোট দিলেও জাপান এতে সংশোধনী চেয়েছে। কারণ, রাশিয়া ও জাপানের মধ্যকার বিতর্কিত 'কুরিল দ্বীপপুঞ্জ' এলাকাটিকে রাশিয়ার অংশ হিসেবে একই রঙে চিহ্নিত করা হয়েছে। জাপানের মন্ত্রিসভার পক্ষ থেকে বিষয়টি মানচিত্র প্রস্তুতকারকদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সংশোধন করতে বলা হয়েছে।

ভারতের অবস্থান

প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দিলেও ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় স্পষ্ট জানিয়েছে, জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখসহ ভারতের সার্বভৌম ভূখণ্ড অবশ্যই দেশটির নিজস্ব অফিসিয়াল মানচিত্র অনুযায়ী দেখাতে হবে। এর বাইরে যেকোনো ভুল ও বিভ্রান্তিকর চিত্রায়ন ভারতের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়।

সূত্র: আল-জাজিরা