ভারতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে যৌথ ঘোষণাপত্র নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়েছে। শনিবার বিকেল ৪টায় ‘ব্রিকস নয়াদিল্লি ঘোষণাপত্র’ প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘোষণাপত্রে কোনো নির্দিষ্ট দেশের নাম উল্লেখ না করে সব ধরনের আগ্রাসনের নিন্দা জানানো হবে। পশ্চিম এশিয়ায় চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ঘোষণাপত্রে সংঘাত নিরসনে ‘সংলাপ ও কূটনীতিই এগিয়ে যাওয়ার পথ’—এই নীতির ওপর জোর দেওয়া হবে। অর্থাৎ সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির আহ্বান জানাবে ব্রিকস।
সব সদস্য দেশকে একটি যৌথ ঘোষণাপত্রে একমত করাতে পারাকে ভারতের কূটনীতির জন্য বড় সাফল্য হিসেবে দেখছে এনডিটিভি। একই সঙ্গে ব্রিকসের শেরপাদেরও গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
সম্মেলনের আগে কয়েক দিন ধরে ব্রিকস শেরপারা যৌথ নেতাদের ঘোষণাপত্রের ভাষা নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা চালিয়েছেন। বিশেষ করে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে কোন ধরনের ভাষা ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য ছিল।
ইরানসহ পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের বিষয়ে ব্রিকসের সদস্য দেশগুলোর অবস্থান এক নয়। ফলে কোনো একটি দেশকে সরাসরি দায়ী করে বা নির্দিষ্ট পক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর ভাষা ব্যবহার করে যৌথ ঘোষণা দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।
এ অবস্থায় কোনো দেশের নাম উল্লেখ না করে সব ধরনের আগ্রাসনের নিন্দা এবং সংঘাত নিরসনে সংলাপ ও কূটনীতির ওপর গুরুত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সমঝোতার পথ তৈরি করেছে।
যৌথ ঘোষণাপত্রে ঐকমত্য ব্রিকসের অভ্যন্তরীণ ঐক্য ধরে রাখার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। বিশেষ করে বর্তমান বৈশ্বিক ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যে ভিন্নমত থাকা সত্ত্বেও একটি অভিন্ন অবস্থান প্রকাশ করতে পারা জোটটির রাজনৈতিক গুরুত্বকে আরও দৃশ্যমান করবে।
ভারতের জন্যও এই সমঝোতা বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। সভাপতির দায়িত্ব পালনকারী দেশ হিসেবে নয়াদিল্লি সদস্য দেশগুলোর মতপার্থক্য দূর করে একটি অভিন্ন ঘোষণাপত্রে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছে। পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিয়ে ব্রিকসের ভেতরে যে জটিলতা তৈরি হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে তা কাটিয়ে ওঠার পথ তৈরি হয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননের কয়েকটি এলাকায় ইসরায়েলি গোলাবর্ষণ
লোহিত সাগর কি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারবে হুথিরা?