ফিলিপাইনে ভয়াবহ ফেরি অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, দুর্ঘটনাকবলিত ফেরির ধ্বংসাবশেষ থেকে আরও ৪১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এখনো ১৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
এমভি জুন অ্যাস্টার নামের ফেরিটিতে ১৩০ জনের বেশি যাত্রী ও ক্রু ছিলেন। বুধবার পর্যটননগরী করোনের কাছে পৌঁছানোর সময় ফেরিটিতে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে এটি ম্যানিলা থেকে করোনের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল।
ফিলিপাইন কোস্ট গার্ড শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর ৪৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের অনেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে এখনো ১৩ জনের কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
উদ্ধারকাজে শুরু থেকেই নানা বাধার মুখে পড়তে হয়েছে। ফেরির ভেতরে বিষাক্ত ধোঁয়া ও প্রচণ্ড তাপ থাকায় উদ্ধারকারীরা ধ্বংসাবশেষে প্রবেশ করতে পারেননি। পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসার পর শুক্রবার থেকে মরদেহ উদ্ধারের কাজ শুরু করা সম্ভব হয়।
ফিলিপাইন কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা জেরোনিমো তুভিলা জানিয়েছেন, এখন তাদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো উদ্ধার হওয়া মরদেহগুলোর পরিচয় শনাক্ত করা এবং আগুন লাগার প্রকৃত কারণ নির্ধারণ করা।
করোনের পর্যটন বিভাগের কর্মকর্তা ক্রিস্টিন অ্যাবলানা জানান, স্বজনদের মাধ্যমে মরদেহ শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে ব্যক্তিগত সামগ্রী ও ডিএনএ পরীক্ষার সহায়তা নেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, কোনো স্বজন যদি ছবি বা উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিগত সামগ্রী দেখে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে পারেন, তাহলে পরিচয় নিশ্চিত করতে তার কাছ থেকে ডিএনএ নমুনা নেওয়া হবে।
কোস্ট গার্ডের মুখপাত্র কমোডর নোয়েমি কায়াবিয়াব জানান, ফেরিটির কার্গো রাখার অংশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে দ্রুত তা অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ে।
বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের বর্ণনা অনুযায়ী, আগুন লাগার আগে তারা একটি বিকট শব্দ শুনেছিলেন। এরপর ধোঁয়া দেখা যায় এবং দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি এত দ্রুত খারাপ হয়ে যায় যে অনেক যাত্রী লাইফজ্যাকেট পরারও সুযোগ পাননি।
উদ্ধারকারী নৌযানে নিরাপদে পৌঁছানো এক যাত্রী বিবিসিকে জানান, আগুন লাগার পর ফেরির ভেতর থেকে আতঙ্কিত মানুষের চিৎকার শুনতে পান তিনি। বের হওয়ার চেষ্টা করার সময় আতঙ্কিত যাত্রীদের চাপে তিনি পদদলিত হওয়ার পরিস্থিতিতে পড়েন।
২০০২ সালে নির্মিত ফেরিটির বৈধ নিরাপত্তা সনদ ছিল এবং চলতি বছরের মার্চেও এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পরিদর্শনে উত্তীর্ণ হয়েছিল বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পালাওয়ান ডেইলি। তবে দুর্ঘটনার তদন্তে যাত্রী তালিকার তথ্যের সঙ্গে বাস্তব সংখ্যার কোনো অসঙ্গতি ছিল কি না, কার্গো সঠিকভাবে বোঝাই করা হয়েছিল কি না এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ক্রুদের প্রস্তুতি ও দায়িত্ব পালনে কোনো ঘাটতি ছিল কি না এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ফেরিটিতে মোট ১১৭ জন যাত্রী এবং ১৭ জন ক্রু সদস্য ছিলেন বলে জানা গেছে।
ফেরিটির পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাটিয়েনজা ইন্টারআইল্যান্ড ফেরিজ তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
এদিকে নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করা এবং আগুনের প্রকৃত কারণ বের করতে তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা ফিলিপাইনের সমুদ্রপথে যাত্রীবাহী ফেরির নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।