তেলের দাম বাড়ার মধ্যেই জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে একমত ব্রিকস

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান অস্থিরতার মধ্যে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ সুরক্ষিত রাখা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থা সচল রাখতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে একমত হয়েছে ব্রিকস দেশগুলো।

ভারতে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলন শেষে এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব সুধাকর দালেলা বলেন, সম্মেলনে পশ্চিম এশিয়ার পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সরবরাহের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।

তিনি বলেন, ব্রিকসের মধ্যে জ্বালানি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি কার্যক্রম রয়েছে। তবে বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণেও জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে নেতাদের বৈঠকে আলোচনা হয়েছে।

দালেলা বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বৈশ্বিক বাণিজ্য, সরবরাহব্যবস্থা এবং জ্বালানি প্রবাহ নির্বিঘ্ন রাখতে সব দেশকেই একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

ব্রিকস সম্মেলন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হলো, যখন পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা বেড়েছে। সপ্তাহের মধ্যে অপরিশোধিত তেলের দাম সাময়িকভাবে ব্যারেলপ্রতি ১০৮ ডলারের ওপরে উঠে যায়। অঞ্চলটির গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা এবং জ্বালানি সরবরাহে সম্ভাব্য সংকটের শঙ্কাই বাজারে দাম বাড়ার অন্যতম কারণ হয়ে ওঠে।

পশ্চিম এশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পথগুলো দিয়ে বিপুল পরিমাণ তেল ও অন্যান্য পণ্য পরিবহন হয়। ফলে এসব নৌপথে সংঘাত বা নিরাপত্তাঝুঁকি তৈরি হলে শুধু জ্বালানি সরবরাহ নয়, বৈশ্বিক বাণিজ্য ও সরবরাহব্যবস্থাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

এই পরিস্থিতিতে ব্রিকসের পক্ষ থেকে বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক আইন মেনে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন বাণিজ্যিক প্রবাহ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরা হয়েছে।

দালেলার বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনৈতিক উত্তেজনাকে শুধু আঞ্চলিক সংকট হিসেবে দেখছে না ব্রিকস। এর সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি নিরাপত্তা, বাণিজ্যপথ এবং সরবরাহব্যবস্থার সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে বলেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তেলবাজারে সাম্প্রতিক মূল্যবৃদ্ধি এরই মধ্যে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জন্য নতুন চাপ তৈরি করেছে। দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের কারণে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে পরিবহন ব্যয় থেকে শুরু করে বিদ্যুৎ উৎপাদন, শিল্পকারখানা ও ভোক্তা পর্যায়ের জ্বালানি ব্যয় পর্যন্ত বাড়তে পারে।

এ কারণে ব্রিকসের দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি সহযোগিতা আরও জোরদার করার বিষয়টি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে বহুপক্ষীয় সহযোগিতার ওপর জোর দেওয়ার মাধ্যমে পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার অর্থনৈতিক প্রভাব কমানোর চেষ্টা করছে জোটটি।