যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের আগ্রাসনের মুখে ইরানের সার্বিক নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক টেকসইতা নিয়ে বিশ্বমঞ্চে কথা বলেছেন প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান। সম্প্রতি ভারতে অনুষ্ঠিত ১৮তম ব্রিকস প্লাস সম্মেলনে তিনি স্পষ্ট জানান, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছাড়া কোনো দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে না।
সম্মেলনে তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো দেশের জ্বালানি বা অর্থনৈতিক অবকাঠামোতে আঘাত হানলে তার নেতিবাচক প্রভাব কেবল একটি সীমান্তেই সীমাবদ্ধ থাকে না। এই ধরনের আগ্রাসন খুব দ্রুত আঞ্চলিক গণ্ডি পেরিয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে।
সম্প্রতি ইরানি বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা এবং রাষ্ট্রীয় অবকাঠামোর মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির কথা তুলে ধরে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। একইসঙ্গে গাজা ও লেবাননের চলমান সংকটের কথা উল্লেখ করে বিশ্ব সম্প্রদায়কে আরও দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।
প্রেসিডেন্ট পেজেশকিয়ান মনে করেন, ব্রিকস জোটের উচিত শক্তির অপব্যবহার রোধ এবং সদস্য দেশগুলোর ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা। আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখতে ব্রিকসের রাজনৈতিক অবস্থান আরও দৃশ্যমান হওয়া প্রয়োজন।
বিশ্ব অর্থনীতিতে আধিপত্যবাদ মোকাবিলার উদ্দেশ্যে তিনি ডলার-নির্ভরতা কমিয়ে ব্রিকস সদস্যদের নিজস্ব মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়ানোর জোর তাগিদ দেন। একইসঙ্গে নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংককে শক্তিশালী করার মাধ্যমে পশ্চিমা রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলার প্রস্তাব পেশ করেন তিনি।
একটি ভারসাম্যপূর্ণ আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেন, বর্তমান যুগে কোনো একটি একক ক্ষমতাকেন্দ্র বিশ্বের অন্যান্য রাষ্ট্রের ‘ভাগ্য নির্ধারণ’ করতে পারে না। সব দেশের অন্তর্ভুক্তিমূলক অংশগ্রহণই বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠার মূল ভিত্তি।
ভারত আয়োজিত এই সম্মেলনে স্থিতিস্থাপকতা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং টেকসই উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করেন আন্তর্জাতিক নেতারা। সম্মেলনের শেষ দিনে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে সর্বসম্মতিক্রমে ‘নয়াদিল্লি ঘোষণা’ গৃহীত হয়।
সূত্র: আনদোলু