তুরস্ক-সৌদি ও পাকিস্তান পদক্ষেপ নিচ্ছে: এরদোগান

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে ইসলামি বিশ্বের সংহতির একটি জোড়ালো বার্তা হিসেবে উল্লেখ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান। 

 

তিনি বলেছেন, তিন দেশের এ উদ্যোগের ফলে ইতোমধ্যে ‘ইতিবাচক অগ্রগতি’ দেখা যাচ্ছে।

 

উত্তর তুরস্কের সামসুন শহরে আয়োজিত এক বিশেষ বৈঠকে তরুণদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেওয়ার সময় এরদোগান এসব কথা বলেন। ‘সামসুন সিটি হাসপাতালের’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তিনি সেখানে গিয়েছিলেন। তার বক্তব্যটি সোমবারে প্রকাশ করা হয়।

 

সামসুন মেট্রোপলিটন মিউনিসিপ্যালিটির ‘ইয়ালি ক্যাফে লাইব্রেরিতে’ একে পার্টির সদর দপ্তরের যুব শাখা আয়োজিত ‘তরুণদের সঙ্গে বৈঠক’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে এরদোগান বলেন, তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তান যৌথভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার লক্ষ্যে একত্রিত হয়েছে। এর মাধ্যমে ইসলামি বিশ্বের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।

 

তিনি বলেন, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্ক একত্রিত হয়ে যে পদক্ষেপ নিয়েছে, সেই পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা  ইসলামি বিশ্বের কাছে একটি বার্তা পৌঁছে দিতে চাই।

 

গত মাসে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’কে তিন দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতার ক্ষেত্রে নতুন কাঠামো হিসেবে দেখা হচ্ছে। মুসলিম দেশগুলোর  সামনে থাকা বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা এবং ইসলামি বিশ্বে বৃহত্তর সংহতি তৈরির প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেও চুক্তিটিকে দেখছেন এরদোয়ান।

 

ন্যায়সঙ্গত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার আহ্বান জানালেন এরদোগান 

 

আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা নিয়ে নিজের দীর্ঘদিনের সমালোচনার প্রসঙ্গ তুলে এরদোগান ‘বিশ্ব  পাঁচের চেয়েও বড়’-এ আহ্বানের কথাও পুনর্ব্যক্ত করেন। এর মাধ্যমে তিনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য-যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকে বোঝান। 

 

এরদোগান দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান কাঠামোকে প্রতিনিধিত্বহীন ও অন্যায্য বলে সমালোচনা করে আসছেন। তিনি আন্তর্জাতিক ব্রবস্থায় সংস্কারের প্রয়োজনীয়তাও পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, আরও ন্যায়সঙ্গত বিশ্ব ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার পক্ষে তুরস্কের সমর্থন ও প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

 

উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা নিয়ে উদ্বেগ

 

হরমুজ প্রণালি ও উপসাগরীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট।তিনি বলেন, ইসলামি বশ্ব বর্তমানে গুরুতর চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। 

 

এরদোগান বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যা ঘটছে, আমরা তার ওপর নজর রাখছি। বিষয়টি শুধু হরমুজ প্রণালির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; উপসাগরীয় অঞ্চলের অনেক অংশেও গুরুতর সমস্যা রয়েছে। 

 

এসব অঞ্চলের সংকট দ্রুত কাটিয়ে ওঠার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, তুরস্ক এসব অঞ্চলের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

 

আঙ্কারা আঞ্চলিক ভূমিকার ওপর জোর দিচ্ছে 

 

আঞ্চলিক বিভিন্ন সংকট মোকাবেলায় তুরস্কের সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত রাখার কথাও জানান এরদোয়ান। মুসলিম দেশগুলোর বিভিন্ন সমস্যা ও সংকট কাটিয়ে ওঠার প্রচেষ্টায় আঙ্কারা সহযোগীতা করে যাবে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

 

তিনি আরও দাবি করেন, আঞ্চলিক সংঘাত ও সংকটের মধ্যেও তুরস্ককে এসব বিপদ থেকে দূরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।

 

পারস্য উপসাগর ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি ঘিরে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে এরদোয়ানের এসব মন্তব্য সামনে এলো। একই সময়ে তুরস্ক, সৌদি আরবও পামিস্তানের নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতাও আঞ্চলিক রাজনীতিতে গুরুত্ব পাচ্ছে।