মাহসা আমিনির মৃত্যুবার্ষিকীতে তেহরানের কাছে আইআরজিসির সামরিক মহড়া

ইরানের রাজধানী তেহরানের কাছে সামরিক মহড়া চালিয়েছে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) স্থলবাহিনীর ২৩তম খাতাম আল-আনবিয়া ডিভিশন। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এ মহড়াটি মাহসা ‘জিনা’ আমিনির মৃত্যুর চতুর্থ বার্ষিকী এবং ২০২২ সালের ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলন শুরুর সময়ের সঙ্গে মিলে গেছে।

মাহসা আমিনি ২০২২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর ইরানের নৈতিকতা পুলিশের হেফাজতে মারা যান। তার মৃত্যুর পর দেশজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে, যা পরে ‘Woman, Life, Freedom’ আন্দোলন নামে পরিচিত হয়।

‘জানফাদা’ কর্মসূচির আওতায় মহড়া

আইআরজিসি জানিয়েছে, মহড়াটি ‘জানফাদা’ কর্মসূচির আওতায় পরিচালিত হচ্ছে। এই কর্মসূচির লক্ষ্য স্বেচ্ছাসেবীদের যুদ্ধ কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত করা এবং শহর ও গ্রামাঞ্চলে তথাকথিত ‘প্রতিরোধ সেল’ গড়ে তোলার মাধ্যমে তাদের প্রশিক্ষিত করা।

ইরানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব স্বেচ্ছাসেবীকে দেশের প্রতিরক্ষায় প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশিক্ষণ ও মোতায়েনের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। ‘জানফাদা’ বা ‘Sacrifice for Iran’ নামে পরিচিত এই প্রচারণা ২০২৬ সালে ইরানের ওপর সামরিক হুমকি ও যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে সক্রিয় হয়। তবে এ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা নিয়ে ইরানি পক্ষের দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

প্রতিবাদের বার্ষিকীতে নিরাপত্তার বার্তা

মাহসা আমিনির মৃত্যুর বার্ষিকী ইরানে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তাগতভাবে সংবেদনশীল একটি সময়। ২০২২ সালের বিক্ষোভে নারীদের পোশাকবিধি, রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণ ও বৃহত্তর রাজনৈতিক-সামাজিক পরিবর্তনের দাবি সামনে আসে। পরবর্তী সময়ে নিরাপত্তা বাহিনীর ব্যাপক উপস্থিতি ও ধরপাকড়ের মধ্য দিয়ে আন্দোলনটি অনেকটাই স্তিমিত হয়ে যায়।

এই প্রেক্ষাপটে তেহরানের কাছে আইআরজিসির সামরিক মহড়া বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। মহড়ার সময় নির্বাচন এবং ‘প্রতিরোধ সেল’ গঠনের ওপর জোর দেওয়াকে ইরানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও জাতীয় প্রতিরক্ষার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে মহড়াটি সরাসরি ২০২২ সালের বিক্ষোভ মোকাবিলার জন্য আয়োজন করা হয়েছে এমন কোনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।

যুদ্ধ পরিস্থিতিতে অভ্যন্তরীণ প্রস্তুতি

২০২৬ সালে ইরানকে ঘিরে আঞ্চলিক সংঘাত ও সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। এর মধ্যে ‘জানফাদা’ কর্মসূচির মাধ্যমে স্বেচ্ছাসেবীদের সংগঠিত করা এবং আইআরজিসির বিভিন্ন মহড়া ইরানের সামরিক প্রস্তুতির বৃহত্তর কাঠামোর অংশ হিসেবে সামনে এসেছে।

তেহরানের কাছে বুধবারের মহড়াটি তাই একদিকে জাতীয় প্রতিরক্ষার প্রস্তুতির বার্তা দিচ্ছে, অন্যদিকে মাহসা আমিনির মৃত্যু ও ২০২২ সালের আন্দোলনের বার্ষিকীতে ইরানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপরও দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে।