হুথিদের মাধ্যমে বাব আল-মান্দাব প্রণালি ও এর আশপাশের দ্বীপ এবং উপকূলীয় এলাকায় দীর্ঘমেয়াদি সামরিক প্রভাব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে ইরান, এমন অভিযোগ করেছেন ইয়েমেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মেজর জেনারেল ইব্রাহিম হাইদান। তার দাবি, হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক পথকে সামরিকীকরণের যে মডেল ইরান তৈরি করেছে, সেটিই লোহিত সাগরে প্রয়োগের চেষ্টা চলছে।
হাইদান বলেন, ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর বিশেষজ্ঞরা হুথিদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করছেন। তাদের সহযোগিতায় বাব আল-মান্দাব ও আশপাশের এলাকায় দুর্গ, পরিচালনাকেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও দূরনিয়ন্ত্রিত নৌযানের জন্য বিভিন্ন স্থাপনা তৈরি করা হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
ইয়েমেনের এই মন্ত্রী বলেন, বর্তমান হুমকির মধ্যেই বিষয়টি সীমাবদ্ধ নয়; ভবিষ্যতের জন্য কী ধরনের সামরিক অবকাঠামো তৈরি করা হচ্ছে, সেটিই বড় উদ্বেগের বিষয়। তার মতে, কৌশলগত এলাকাগুলোতে হুথিদের নিয়ন্ত্রণ অব্যাহত থাকলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মান্দাবের ওপর ইরান উল্লেখযোগ্য প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পেতে পারে।
হাইদানের বক্তব্য অনুযায়ী, ৩ থেকে ১১ সেপ্টেম্বরের অভিযানে হুথিরা ইয়েমেনের পশ্চিম উপকূলের হাইস, আল-খোখা, মোখা ও মোখা বন্দর দখল করে বাব আল-মান্দাব, মায়ুন দ্বীপ এবং দক্ষিণ লোহিত সাগরের আরও কয়েকটি ইয়েমেনি দ্বীপের দিকে অগ্রসর হয়েছে। এসব ঘটনার পর এডেন, লাহিজ এবং সম্মুখসারির পেছনের এলাকায় নিরাপত্তা প্রস্তুতি বাড়ানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
‘বাব আল-মান্দাব সামরিকীকরণ’
হাইদান বলেন, বাব আল-মান্দাবের আশপাশে ইরান-সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা হুথিদের সামরিক সক্ষমতা ও অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও দিকনির্দেশনা দিচ্ছেন। তার দাবি, প্রণালির আশপাশের দ্বীপ, উপকূল ও পার্বত্য এলাকায় দুর্গ, ঘাঁটি, পরিচালনাকেন্দ্র এবং ড্রোন ও দূরনিয়ন্ত্রিত নৌযান তৈরির গুহা নির্মাণসহ ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়নের সক্ষমতা গড়ে তোলা হচ্ছে।
ইরান হরমুজ প্রণালিতে সামুদ্রিক পথকে সামরিকীকরণের যে অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে, বাব আল-মান্দাবে সেটিই অনুসরণ করতে চায় বলে অভিযোগ করেন হাইদান। তার আশঙ্কা, এর ফলে একটি উন্মুক্ত আন্তর্জাতিক নৌপথ ভবিষ্যতে প্রভাব ও চাপ প্রয়োগের হাতিয়ারে পরিণত হতে পারে। ইরান ও হুথিদের নৌচলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে দেওয়া আশ্বাসকেও যথেষ্ট মনে করেন না তিনি।
মায়ুন দ্বীপ নিয়েও সতর্ক করেছেন ইয়েমেনের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার মতে, সময় পেলে হুথিরা সেখানে উন্নত নজরদারি, অনুসরণ ও সংকেত বিঘ্নিত করার ব্যবস্থার সহায়তায় ঘাঁটি, আশ্রয়কেন্দ্র ও সুরক্ষিত স্থাপনা গড়ে তুলতে পারে। বাব আল-মান্দাবের কেন্দ্রস্থলে থাকা মায়ুন দ্বীপ ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালির ইরানি লারাক দ্বীপের মতো সামরিক ভূমিকা নিতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
হাইদান আরও বলেন, জুকার ও হানিশ দ্বীপপুঞ্জসহ লোহিত সাগরের উপকূল ও পার্বত্য এলাকাও হুথিরা নিয়ন্ত্রণ সুসংহত করতে পারলে একটি সমন্বিত সামরিক ব্যবস্থার অংশ হয়ে উঠতে পারে।
আফ্রিকার প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা
বাব আল-মান্দাবের নিয়ন্ত্রণ শুধু প্রণালিতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেও সতর্ক করেছেন হাইদান। তার দাবি, প্রণালিটি হুথিদের নিয়ন্ত্রণে থাকলে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী ইয়েমেন, লোহিত সাগর ও আফ্রিকার মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর সুযোগ পেতে পারে।
তিনি বলেন, চোরাচালান নেটওয়ার্ক ও সমুদ্রপথ ব্যবহার করে অস্ত্র, সরঞ্জাম ও সামরিক দক্ষতা স্থানান্তর, হুথিদের সামরিক ও রসদ সক্ষমতা বাড়ানো এবং আফ্রিকার সক্রিয় সশস্ত্র ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ বিস্তারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে সোমালিয়ার আল-শাবাবের কথা উল্লেখ করেন তিনি। তার দাবি, এসব গোষ্ঠীর সক্ষমতা হুথি ও ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যেতে পারে।
উপকূলরক্ষী বাহিনীর জন্য সহায়তা চায় ইয়েমেন
হাইদান বলেন, ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী হুথিদের মোকাবিলা করে হারানো ভূখণ্ড পুনর্দখল ও নিরাপদ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। হুথিদের অর্থায়ন ও সরবরাহের অন্যতম প্রধান মাধ্যম হিসেবে চোরাচালানকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সীমিত সম্পদ নিয়েও ইয়েমেনের উপকূলরক্ষী বাহিনী দায়িত্ব পালন করছে।
তবে উপকূলরক্ষী বাহিনীর জন্য মিত্র ও বন্ধুভাবাপন্ন দেশগুলোর কাছ থেকে জরুরি ও বিশেষায়িত সহায়তা প্রয়োজন বলে জানান তিনি। এর মধ্যে সমুদ্রপথ নজরদারি ও পর্যবেক্ষণ সক্ষমতা, অনুসরণ ও পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা, টহল নৌযান এবং আধুনিক সরঞ্জাম দেওয়ার কথা বলেন তিনি। চোরাচালান নেটওয়ার্ক শনাক্ত, তাদের গতিপথ অনুসরণ ও চালান আটকে দিতে গোয়েন্দা সক্ষমতাও বাড়ানোর আহ্বান জানান।
এদিকে পশ্চিম উপকূলের সাম্প্রতিক সংঘাতের পর বাস্তুচ্যুতি বাড়ায় এডেন, লাহিজ ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে বলে জানান হাইদান। তার ভাষ্য, প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যৌথ পরিচালনাকেন্দ্রের মাধ্যমে পরিস্থিতি মোকাবিলা করছে। বাস্তুচ্যুত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের চলাচলকে কাজে লাগিয়ে হুথিদের অনুপ্রবেশ বা নাশকতা ঠেকানোও এসব ব্যবস্থার অংশ।
হাইদান আরও বলেন, নিরাপত্তা বাহিনীগুলো হুথি হুমকি, সন্ত্রাসবাদ, সংগঠিত অপরাধ ও চোরাচালানকে আলাদা সমস্যা হিসেবে দেখছে না; বরং একটি সমন্বিত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বিবেচনা করছে। তার দাবি, হুথি, সন্ত্রাসী সংগঠন, চোরাচালান নেটওয়ার্ক ও সংগঠিত অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে যোগসাজশ রয়েছে এবং সোমালিয়ার আল-শাবাবের সঙ্গেও হুথিদের যোগাযোগ রয়েছে। সূত্র: আরব নিউজ
রামাল্লায় সাবেক আলজাজিরা সাংবাদিক আলা আল-রিমাওয়ি গ্রেপ্তার
চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা সফল: আরাঘচি
পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ
হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল নেমে ৩টিতে