পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ফোনালাপ

আপডেট : ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম

পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে অবস্থানকালে তিনি পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন বলে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে।

তাসনিমের প্রতিবেদনে বলা হয়, ফোনালাপে সর্বশেষ আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং দুই দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় করেন আরাকচি ও মুনির।

বেইজিংয়ে আরাকচির কূটনৈতিক তৎপরতা

আঞ্চলিক উত্তেজনার মধ্যেই আরাকচির চীন সফর হচ্ছে। বুধবার বেইজিংয়ে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা, আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

চীন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে সংযত থাকার এবং আলোচনায় ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহন ও সরবরাহব্যবস্থার স্থিতিশীলতার জন্য হরমুজ প্রণালী দ্রুত পুনরায় উন্মুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছে বেইজিং।

আরাকচি বৈঠকে বলেন, ইরান তার জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় প্রস্তুত। একই সঙ্গে ইরানের জনগণের অধিকার নিশ্চিত করে—এমন কূটনৈতিক সমাধানের প্রতিও তেহরানের আগ্রহ রয়েছে বলে তিনি জানান।

ইরান-পাকিস্তান যোগাযোগে নতুন মাত্রা

আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির মধ্যে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও পাকিস্তানের সামরিক প্রধানের সরাসরি ফোনালাপ বিশেষ গুরুত্ব বহন করছে। তবে তাসনিমের প্রতিবেদনে আলোচনার বিস্তারিত বিষয় বা কোনো নির্দিষ্ট সমঝোতার কথা উল্লেখ করা হয়নি।

এর আগে এপ্রিল মাসে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনাতেও পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। ফলে বর্তমান আঞ্চলিক সংকটের মধ্যে তেহরান ও ইসলামাবাদের উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনির বুধবার মার্কিন ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান Powerus-এর একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গেও বৈঠক করেছেন। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সেখানে প্রতিরক্ষা ক্রয়, উৎপাদন ও দীর্ঘমেয়াদি সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

তবে আরাকচি-মুনির ফোনালাপের ক্ষেত্রে আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও পারস্পরিক স্বার্থের বিষয় আলোচনা হয়েছে—এর বাইরে কোনো নির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা সামরিক সহযোগিতার বিষয়ে তেহরান বা ইসলামাবাদের পক্ষ থেকে বিস্তারিত জানানো হয়নি।

চীনে আরাকচির সফর এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের সঙ্গে তাঁর ফোনালাপ এমন সময়ে হলো, যখন হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে আন্তর্জাতিক উদ্বেগ এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের প্রভাব আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর পড়ছে। দীর্ঘ পাল্লার শক্তিশালী এয়ার টু এয়ার ডিফেন্স ড্রোন তৈরী করেছে ইরান, এটি নিজে থেকেই শত্রু মিসাইলকে টার্গেট করে আঘাত হানতে সক্ষম!

এমইউ
আরও পড়ুন