‘পাকিস্তানের সঙ্গে চীনের তো কোনো সীমান্তই নেই’, কড়া বার্তা ভারতের

১৯৪৮ সালে অবৈধ ভাবে জম্মু ও কাশ্মীরের একাংশ দখল করেছিল পাকিস্তান। সেই জবরদখল করা অংশের অন্তর্গত শাক্‌সগাম উপত্যকা বা ট্রান্স-কারাকোরাম ট্র্যাক্ট ১৯৬৩ সালে চীনকে উপহার দেয় ইসলামাবাদ।

সদ্যগঠিত পাকিস্তান-চীন যৌথ সীমান্ত কমিশন নিয়ে কড়া প্রতিক্রিয়া জানাল ভারত। বিদেশ মন্ত্রণালয়ের তরফে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, চীন এবং পাকিস্তানের মধ্যে কোনও স্বীকৃত সীমান্ত নেই। জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাই তথাকথিত ‘পাকিস্তান-চীন সীমান্ত কমিশনের কোনও অস্তিত্বই নেই। ওই কমিশন গঠনকে ‘নাটক’ বলেছে নয়াদিল্লি।

তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে দিল্লিতে ব্রিক্‌স শীর্ষবৈঠকের পরেই নতুন সীমান্ত কমিশন গড়েছে চীন ও পাকিস্তান। বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতিতে তার তীব্র নিন্দা করে বলা হয়েছে, “ভারতের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা ক্ষুণ্ণ করে, এমন কোনও পদক্ষেপের মাধ্যমে অধিকৃত অঞ্চলগুলির তকমা বদল বা অবৈধ দখলদারিকে বৈধতা দেওয়ার প্রচেষ্টার আমরা দৃঢ় ভাবে বিরোধিতা ও প্রত্যাখ্যান করি। ভারতীয় ভূখণ্ড নিয়ে চীন ও পাকিস্তানের তথাকথিত সীমান্ত চুক্তি (১৯৬৩ সালের) তাই সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’’

১৯৪৮ সালে অবৈধ ভাবে জম্মু ও কাশ্মীরের একাংশ দখল করেছিল পাকিস্তান। সেই জবরদখল করা অংশের অন্তর্গত শাক্‌সগাম উপত্যকা বা ট্রান্স-কারাকোরাম ট্র্যাক্ট ১৯৬৩ সালে চীনকে উপহার দেয় ইসলামাবাদ। অন্য দু’টি অংশের একটিকে প্রথমে ‘ফেডারেলি অ্যাডমিনিস্টার্ড নর্দার্ন এরিয়া’ (বর্তমানে নাম বদলে, গিলগিট বালটিস্তান) নাম দিয়ে সরাসরি পাকিস্তানি শাসনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়। অন্য অংশের নাম দেওয়া হয় ‘আজাদ কাশ্মীর’।

অন্য দিকে, ১৯৪৪ সালে চীনের কমিউনিস্ট বাহিনী স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র ইস্ট তুর্কিস্তান দখল করেছিল। গৃহযুদ্ধে জয়ী হওয়ার পরে ১৯৪৯ সালে চেয়ারম্যান মাও জে দংয়ের সরকার আনুষ্ঠানিক ভাবে উইঘুর মুসলিমদের ওই আবাসভূমিকে ‘শিনজিয়াং’ প্রদেশ হিসেবে ঘোষণা করে পাকাপাকি ভাবে চীনের অন্তর্ভুক্ত করেছিল। এর পরে ১৯৬৬ সালের যুদ্ধে লাদাখের অংশ আকসাই চীনও দখল করেছিল চীনের পিপল্‌স লিবারেশন আর্মি (পিএলএ)।

পশ্চিম চীনের শিনজিয়াং প্রদেশের কাশগড় থেকে দক্ষিণ পাকিস্তানের গ্বদর বন্দর পর্যস্ত বিস্তৃত কারাকোরাম হাইওয়ে (যার পোশাকি নাম চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডর বা সিপিইসি) গিয়েছে শাক্‌সগাম উপত্যকা ঘেঁষে। ১৩০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ‘বাই লেন’ মহাসড়ক চীনের ‘ওয়ান বেল্ট ওয়ান রোড’ কর্মসূচির অন্যতম প্রধান অঙ্গ। ভারতীয় ভূখণ্ডের উপর রাস্তা নির্মাণের বিরোধিতা করে এর আগে একাধিক বার কূটনৈতিক স্তরে প্রতিবাদ জানিয়েছে নয়াদিল্লি। কিন্তু কখনওই তাতে কর্ণপাত করেনি চীন এবং পাকিস্তান।