চলতি বছরের শুরু থেকে এ পর্যন্ত ইউক্রেনের ৫,৩০০ বর্গকিলোমিটারের বেশি এলাকা এবং ২২০টিরও বেশি লোকালয় (সেটেলমেন্ট) নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার দাবি করেছে রাশিয়া।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে।
টেলিগ্রামে দেওয়া ওই বিবৃতিতে রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, কেবল সেপ্টেম্বর মাসেই ৬৭০ বর্গকিলোমিটারের বেশি ভূখণ্ড এবং ২৭টি এলাকা তাদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইউক্রেনের সীমান্ত ঘেঁষা সুমি ও খারকিভ অঞ্চলে 'নিরাপত্তা বলয়' বা সিকিউরিটি জোন গড়ে তুলতে রুশ বাহিনী অভিযান অব্যাহত রেখেছে। গত ৫ সেপ্টেম্বর থেকে উত্তর-পূর্ব খারকিভে ইউক্রেনের অধীনস্থ এলাকা থেকে ১৫২ বর্গকিলোমিটার অংশ রাশিয়ার দখলে এসেছে এবং নতুন করে ৯টি লোকালয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে। এতে ইউক্রেনের প্রায় ৭০০ সেনা প্রাণ হারিয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
অন্যদিকে, ঝাপোরিজিয়া অঞ্চলে রুশ বাহিনী বিস্তৃত ফ্রন্টলাইনজুড়ে সামনের দিকে অগ্রসর হচ্ছে বলে মন্ত্রণালয় জানিয়েছে। তারা জানায়, সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে অঞ্চলটির ৪টি এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়েছে এবং অরিখিভের কেন্দ্রীয় এলাকায় লড়াই অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মতে, সবচেয়ে তীব্র লড়াই চলছে ক্রামাতোরস্ক-স্লোভিয়ানস্ক ক্লাস্টারের প্রবেশদ্বারে। সেখানে স্লোভিয়ানস্ক, ক্রামাতোরস্ক ও দ্রুঝকিভকার কাছে ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা ব্যূহ ভেদ করতে আক্রমণ চালাচ্ছে রুশ সেনারা। এছাড়া দোব্রোপিলিয়া শহরের কেন্দ্রে সরাসরি রাস্তায় রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ (স্ট্রিট ফাইটিং) চলছে।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কিয়েভের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে বলেছে, পশ্চিমাদের গণমাধ্যম ও সামরিক বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় ইউক্রেন একটি "আগ্রাসী তথ্য যুদ্ধ" চালাচ্ছে, যাতে তাদের রণক্ষেত্রের সাধারণ ঘটনাগুলোকেও বড় কোনো সাফল্য হিসেবে উপস্থাপন করা যায়।
বিবৃতিতে দাবি করা হয়, রুশ বাহিনী ওসকিল, ক্রিমকি ও স্তুদেনোক এলাকা নিয়ন্ত্রণে নিতে সফলতার সঙ্গে লড়াই চালাচ্ছে। একই সঙ্গে ক্রাসনি লিমান ও সেভিয়াটোহিরস্কের আবাসিক এলাকাগুলো শত্রু মুক্ত করতে তল্লাশি অভিযান জোরদার করা হয়েছে।
তবে রাশিয়ার এই দাবির বিষয়ে ইউক্রেনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। চলমান যুদ্ধের কারণে এসব দাবির নিরপেক্ষ সত্যতা যাচাই করাও সম্ভব হয়নি।
সূত্র: আনাদোলু