রাশিয়ায় নেসলের সম্পদ জব্দ করলো ক্রেমলিন

আপডেট : ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৩ পিএম

ইউক্রেন যুদ্ধের পর বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ানোর ধারাবাহিকতায় রাশিয়ায় নেসলে ও ফরাসি খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওশাঁর সম্পদ জব্দ করেছে ক্রেমলিন। প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের একটি ডিক্রির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান দুটির রাশিয়ায় থাকা সম্পদ সাময়িকভাবে দেশীয় প্রতিষ্ঠান এলইভি ম্যানেজমেন্টের নিয়ন্ত্রণে দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর)  সাংবাদিকদের কাছে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, নেসলে ও ওশাঁ ইউরোপের এমন দেশগুলোর প্রতিষ্ঠান, যেগুলোকে রাশিয়া বন্ধুত্বহীন হিসেবে বিবেচনা করে এবং যারা বর্তমানে রাশিয়ার বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে সক্রিয়ভাবে জড়িত। এর এক দিন আগে পুতিনের ডিক্রিতে প্রতিষ্ঠান দুটির সম্পদ সাময়িক নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়।

কিটক্যাট চকলেট ও নেসক্যাফে কফির নির্মাতা নেসলে জানিয়েছে, রাশিয়ায় তাদের কার্যক্রম নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা তারা পর্যালোচনা করছে। বিশ্বের বৃহত্তম খাদ্য ও পানীয় কোম্পানিটি এখনো রাশিয়ায় ছয়টি স্থাপনা পরিচালনা করে এবং সেখানে ৭ হাজারের বেশি কর্মী রয়েছে। ২০২১ সালে রাশিয়ায় নেসলের বিক্রি ছিল প্রতিষ্ঠানটির মোট বিক্রির প্রায় ২ শতাংশ, যার পরিমাণ ছিল প্রায় ২০০ কোটি সুইস ফ্রাঁ।

এক বিবৃতিতে নেসলে জানিয়েছে, নিজেদের অধিকার সুরক্ষিত রাখা এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার জন্য প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। বিশেষ করে কর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রাখা হবে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ঘোষণার পর জুরিখে নেসলের শেয়ারের দাম ২ শতাংশ কমেছে।

ওশাঁ এ বিষয়ে সিএনএন-এর মন্তব্যের অনুরোধে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইট অনুযায়ী, রাশিয়ায় তাদের ২৩০টি সরাসরি বিক্রয়কেন্দ্র ও অনলাইন কার্যক্রম রয়েছে এবং সেখানে প্রায় ৩০ হাজার মানুষ কাজ করেন। প্রতিষ্ঠানটি খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি পোশাক, গৃহস্থালি সামগ্রী ও ইলেকট্রনিক পণ্য বিক্রি করে।

২০২২ সালে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই রাশিয়া বিদেশি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করেছে। ২০২৩ সালে পুতিনের স্বাক্ষর করা একটি ডিক্রির মাধ্যমে বন্ধুত্বহীন হিসেবে বিবেচিত দেশগুলোর প্রতিষ্ঠানের সম্পদ সাময়িকভাবে রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার ক্ষমতা সরকারকে দেওয়া হয়।

এরপর ফরাসি দই প্রস্তুতকারক দানোন ও ডেনমার্কের বিয়ার প্রস্তুতকারক কার্লসবার্গের রাশিয়ায় থাকা সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়ন্ত্রণও নেওয়া হয়। ইউক্রেনে যুদ্ধ শুরুর পর এক মাসের মধ্যে এক হাজারের বেশি বিদেশি কোম্পানি স্বেচ্ছায় রাশিয়া থেকে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছিল।

যুদ্ধ শুরুর পর রাশিয়ায় নেসলে তাদের পণ্যের পরিসরও ব্যাপকভাবে কমিয়ে আনে। দেশটিতে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্তের জন্য ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিসহ বিভিন্ন পক্ষের সমালোচনার মুখে পড়েছিল প্রতিষ্ঠানটি। তবে নেসলে বলেছিল, রাশিয়ায় তাদের সীমিত কার্যক্রম থেকে তারা মুনাফা করছে না এবং জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বেসরকারি কোম্পানিগুলোর ওপরও সরকারি নিয়ন্ত্রণ বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের পর বেসরকারি খাতে যে সম্পদ হস্তান্তর হয়েছিল, তার কিছু চুক্তি দেশটির অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে, এমন অভিযোগ তুলে রাশিয়ার প্রধান কৌঁসুলির দপ্তর সেগুলো পুনরায় খতিয়ে দেখছে বলে কার্নেগি রাশিয়া ইউরেশিয়া সেন্টারের জ্যেষ্ঠ ফেলো আলেক্সান্দ্রা প্রোকোপেঙ্কো নিউইয়র্ক টাইমসে লিখেছেন।

এদিকে রাশিয়ায় এই সম্পদ নিয়ন্ত্রণের প্রক্রিয়া এমন সময়ে চলছে, যখন দেশটিতে পার্লামেন্ট নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ইউক্রেনে ২০২২ সালের পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরুর পর এটিই প্রথম জাতীয় পার্লামেন্ট নির্বাচন। চলতি সপ্তাহান্তের নির্বাচনে পুতিনের ইউনাইটেড রাশিয়া দল বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সূত্র: সিএনএন

এএস
আরও পড়ুন