১১৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ বদল

যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ কার্যকর করার সময় এ পর্যন্ত ১১৫টি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছে।

অন্যদিকে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানিয়েছেন, মার্কিন সামরিক সহায়তায় প্রতিদিন প্রায় ১ কোটি থেকে ১ কোটি ৭০ লাখ ব্যারেল তেল হরমুজ দিয়ে পরিবহন করা হচ্ছে। যুদ্ধের আগে এই জলপথ দিয়ে দৈনিক প্রায় ২ কোটি ব্যারেল তেল পরিবহন হতো বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

অর্থাৎ হরমুজ পুরোপুরি জাহাজ চলাচল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়নি; তবে যুদ্ধ ও নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক প্রবাহ ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জাতিসংঘের ভাষণে ইরানের সঙ্গে চুক্তির সম্ভাবনার কথা বলার পাশাপাশি সামরিক পদক্ষেপের হুমকিও দিয়েছেন। অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান জাতিসংঘে বলেছেন, তেহরান আলোচনা ও কূটনীতির জন্য প্রস্তুত, তবে সামরিক চাপের অধীনে কোনো সমঝোতায় যাবে না।

পেজেশকিয়ান বলেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। তবে আলোচনার দরজা বন্ধও করেননি।

ফলে দুই পক্ষের অবস্থানে একটি গুরুত্বপূর্ণ মিল যেমন রয়েছে—উভয় পক্ষই কূটনৈতিক যোগাযোগ চালিয়ে যাচ্ছে—তেমনি মৌলিক অমিলও স্পষ্ট। ওয়াশিংটন ইরানের ওপর চাপ বজায় রেখে সমঝোতা চায়, আর তেহরান আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে সামরিক চাপ ও অবরোধ প্রত্যাহারের ওপর জোর দিচ্ছে।

হরমুজ সংকটের প্রভাব আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারেও পড়ছে। বুধবার ইরানের প্রেসিডেন্টের কঠোর বক্তব্য ও যুদ্ধের অনিশ্চয়তার মধ্যে তেলের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বেড়েছিল। পরে কূটনৈতিক আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় বৃহস্পতিবার তেলের দাম কিছুটা কমে আসে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০২ ডলারের আশপাশে এবং ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের দাম ৯২ ডলারের কাছাকাছি ছিল। বাজারের এই ওঠানামা দেখাচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার অগ্রগতি বা ব্যর্থতা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও তাৎক্ষণিক প্রভাব ফেলছে।

জাতিসংঘের এবারের আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হলেও যোগাযোগের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের মধ্যে আবারও আলোচনা হতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। কাতার ও অন্যান্য আঞ্চলিক দেশও উত্তেজনা কমাতে মধ্যস্থতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তবে বাস্তব অগ্রগতির সবচেয়ে বড় পরীক্ষা হবে হরমুজ প্রণালি। যুদ্ধ বন্ধ, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, ইরানি সম্পদ অবমুক্তকরণ এবং জলপথের নিয়ন্ত্রণ ও নৌ চলাচলের শর্ত—এসব বিষয়ে সমঝোতা ছাড়া বড় ধরনের চুক্তিতে পৌঁছানো কঠিন বলে বর্তমান আলোচনার গতিপ্রকৃতি থেকে বোঝা যাচ্ছে।

অর্থাৎ নিউইয়র্কের বৈঠক দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক যোগাযোগের একটি নতুন সুযোগ তৈরি করলেও যুদ্ধের অবসান ও হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিক করার প্রশ্নে ওয়াশিংটন ও তেহরানের দূরত্ব এখনো যথেষ্ট।