ইরানের সঙ্গে সব ধরনের বিমান চলাচল স্থগিত করেছে ইরাকের নাজাফ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোর ২টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ইরান থেকে আসা এবং ইরানে যাওয়া সব ফ্লাইট বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।
বিমানবন্দর ব্যবস্থাপনা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দেওয়া সরকারি নির্দেশনার ভিত্তিতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। স্থগিত হওয়া ফ্লাইটগুলোর বিষয়ে কোনো কার্যক্রম না চালাতে এয়ারলাইনস ও সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ফ্লাইট চালুর অনুমতি বা নতুন কোনো নির্দেশনা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনসগুলোকে জানানো হবে।
তবে বিজ্ঞপ্তিতে ফ্লাইট বন্ধের সুনির্দিষ্ট কারণ কিংবা কোন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা উল্লেখ করা হয়নি।
কয়েক ঘণ্টা আগেও চালু ছিল ফ্লাইট
নাজাফ বিমানবন্দরের সিদ্ধান্তটি এসেছে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে। বৃহস্পতিবার বিমানবন্দরের এক কর্মকর্তা জানিয়েছিলেন, ইরানের সঙ্গে বিমান চলাচল তখনও স্বাভাবিক ছিল এবং ফ্লাইট বন্ধের কোনো সরকারি নির্দেশ তারা পায়নি। সেদিন নাজাফ থেকে ইরানের বিভিন্ন গন্তব্যে একাধিক ফ্লাইট চলাচল করছিল।
এর আগে ইরানের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, বাগদাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ইরানি এয়ারলাইনসের ফ্লাইট গ্রহণ বন্ধ করেছে। এর পর ইরান বাগদাদের পরিবর্তে নাজাফ বিমানবন্দরকে বিকল্প গন্তব্য হিসেবে ব্যবহারের জন্য আলোচনা শুরু করেছিল।
কিন্তু এখন নাজাফও ইরানি ফ্লাইট বন্ধ করে দেওয়ায় ইরান-ইরাক আকাশপথে যাতায়াতের ওপর নতুন করে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় যাত্রাপথে ধাক্কা
নাজাফ শিয়া মুসলিমদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় শহর। এখানে শিয়া ইসলামের প্রথম ইমাম হজরত আলী (রা.)-এর মাজার অবস্থিত। শহরটি একই সঙ্গে শিয়া ধর্মীয় শিক্ষা ও গবেষণার অন্যতম প্রধান কেন্দ্র।
ইরানের বহু ধর্মপ্রাণ মানুষ নাজাফ হয়ে ইরাকের কারবালা শহরে যান। কারবালায় শিয়া ইসলামের তৃতীয় ইমাম হজরত ইমাম হুসাইন (রা.)-এর মাজার অবস্থিত। ফলে নাজাফ-ইরান বিমানপথ শুধু সাধারণ যাত্রীদের জন্য নয়, ইরানি তীর্থযাত্রীদের জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
বিমান চলাচল বন্ধ হওয়ায় দুই দেশের ধর্মীয় ও পর্যটনভিত্তিক যাতায়াতেও প্রভাব পড়তে পারে। নাজাফ বিমানবন্দরের বুধবারের সূচিতে ২০টি ফ্লাইটের মধ্যে ১৮টিই ইরানের বিভিন্ন শহরের সঙ্গে সংযুক্ত ছিল বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
ইরানি বিমান চলাচলে বাড়ছে নিষেধাজ্ঞা
নাজাফের সিদ্ধান্তটি এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরানি এয়ারলাইনসের আন্তর্জাতিক কার্যক্রমের ওপর একের পর এক বিধিনিষেধ আরোপ করা হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের বিমান চলাচল খাতের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ৩৬টি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় এনেছে, যার মধ্যে ২৭টি এয়ারলাইনস রয়েছে। ওয়াশিংটন বলছে, এসব বিমান সংস্থা ইরানের সামরিক ও নিরাপত্তা-সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে সহায়তা করে।
যুক্তরাষ্ট্র একই সঙ্গে তৃতীয় দেশের বিমানবন্দর, জ্বালানি সরবরাহকারী ও অন্যান্য সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানকে ইরানি নিষেধাজ্ঞাভুক্ত এয়ারলাইনসের সঙ্গে ব্যবসা না করার বিষয়ে সতর্ক করেছে। এর ফলে ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ক্রমেই সংকুচিত হচ্ছে।
ইতোমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতও ইরানি এয়ারলাইনসের সব ফ্লাইট পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত করেছে। জর্জিয়া ও আজারবাইজানও ইরানি বিমান চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। বাগদাদ ও মাসকাটের ক্ষেত্রেও ইরানি ফ্লাইট গ্রহণ বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে।
ফলে বাগদাদের পর নাজাফও বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ইরান ও ইরাকের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ একটি আকাশপথ কার্যত বন্ধ হয়ে গেল। বিশেষ করে ইরানি তীর্থযাত্রীদের জন্য এটি নতুন ভ্রমণ-জটিলতা তৈরি করতে পারে।