ইরানি এয়ারলাইনগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার প্রভাব এবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের দেশে ফেরা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে। নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিতে আসা পেজেশকিয়ান ও তার প্রতিনিধিদল কীভাবে ইরানে ফিরবেন—এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানি বিমান চলাচলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হওয়ার পর আন্তর্জাতিক বিমান যোগাযোগে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। এর মধ্যেই নিউইয়র্কে অবস্থানরত ইরানি প্রতিনিধিদলের প্রত্যাবর্তনের বিষয়টি সামনে এসেছে।
২১ সেপ্টেম্বর সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বেসেন্ট বলেছিলেন, ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইরানি এয়ারলাইনগুলোর কার্যক্রম কার্যত বন্ধ হয়ে যাবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনো বিদেশি বিমানবন্দর ইরানি বিমানকে অবতরণের সুযোগ দিলে, জ্বালানি বা ল্যান্ডিং সেবা দিলে কিংবা তাদের টিকিট বিক্রিতে সহায়তা করলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়তে পারে।
তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরানি বিমানকে এসব সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠান মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকিতে থাকবে।
এই নিষেধাজ্ঞার ফলে ইরানের আন্তর্জাতিক বিমান চলাচল ইতোমধ্যে ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্র ইরানের অবশিষ্ট ২৭টি এয়ারলাইনকে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনে। এরপর ইরানি বিমানগুলোর জন্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক রুটে ফ্লাইট পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়ে।
পেজেশকিয়ান ২২ সেপ্টেম্বর তেহরান থেকে নিউইয়র্কের উদ্দেশে রওনা হন। জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে তিনি ২৩ সেপ্টেম্বর ভাষণ দেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ও অন্যান্য কর্মকর্তা।
জাতিসংঘ অধিবেশনের পাশাপাশি ইরানি প্রতিনিধিদল নিউইয়র্কে কূটনৈতিক তৎপরতাও চালিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংঘাতের অবসান এবং হরমুজ প্রণালিতে নৌ চলাচল স্বাভাবিক করার বিষয়ে মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আলোচনাও হয়েছে।
আল জাজিরার তথ্য অনুযায়ী, ইরানি প্রতিনিধিদল পাঁচ দিন নিউইয়র্কে থাকার পর শনিবার তেহরানে ফেরার সূচিতে রয়েছে। তবে তাদের প্রত্যাবর্তনে ঠিক কোন বিমান বা রুট ব্যবহার করা হবে, তা নিয়ে বিস্তারিত প্রকাশ্যে আসেনি।
ইরানি বিমান চলাচলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে সাধারণ যাত্রীদেরও ভোগান্তি বেড়েছে। আল জাজিরা জানিয়েছে, ইরানি এয়ারলাইনগুলোর অনেক আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। ফলে হাজারো যাত্রীকে তুরস্ক ও আর্মেনিয়ার মতো প্রতিবেশী দেশের স্থলসীমান্ত ব্যবহার করে সেখান থেকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইট ধরতে হচ্ছে।
চীন ও রাশিয়া ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাখ্যান করলেও তাদের আন্তর্জাতিকভাবে সংযুক্ত কিছু প্রতিষ্ঠান মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকি এড়াতে ইরানের সঙ্গে লেনদেন থেকে দূরে থাকতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এখন পর্যন্ত এমন কোনো তথ্য নেই যে পেজেশকিয়ানকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের হতে দেওয়া হবে না। বেসেন্টের মন্তব্যকে এমন কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত হিসেবেও দেখা যাচ্ছে না।
বরং বিষয়টি ইরানি বাণিজ্যিক বিমান চলাচলের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে তৈরি হওয়া পরিবহন-সংকটকে ঘিরে। রাষ্ট্রীয় বা বিশেষ ব্যবস্থায় কোনো দেশের প্রেসিডেন্ট ও সরকারি প্রতিনিধিদলের প্রত্যাবর্তনের ব্যবস্থা বাণিজ্যিক যাত্রীবাহী ফ্লাইটের চেয়ে আলাদা হতে পারে।
ফলে ‘পেজেশকিয়ান যুক্তরাষ্ট্র থেকে বের হতে পারবেন না’—এমন দাবি করার মতো তথ্য এখনো নেই। বরং প্রশ্নটি হলো, মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানি বাণিজ্যিক বিমান চলাচল যখন মারাত্মকভাবে সীমিত, তখন নিউইয়র্ক থেকে ইরানি প্রেসিডেন্ট ও তাঁর প্রতিনিধিদল কোন ব্যবস্থায় তেহরানে ফিরবেন।
সূত্র: আল জাজিরা