বাব আল-মান্দাব দিয়ে বৃহস্পতিবার ২৬ জাহাজ চলাচল

ইয়েমেন ও লোহিত সাগর ঘিরে চলমান নিরাপত্তা উত্তেজনার মধ্যেও বাব আল-মান্দাব প্রণালি দিয়ে বৃহস্পতিবার ২৬টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে। জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, এসব জাহাজের ১২টি প্রণালিতে প্রবেশ করেছে এবং ১৪টি বেরিয়ে গেছে।

বুধবারের তুলনায় বৃহস্পতিবার জাহাজ চলাচল সামান্য কমেছে। বুধবার এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে ২৭টি পণ্যবাহী জাহাজ পার হয়েছিল। তার আগের দিন মঙ্গলবার চলাচল করেছিল ২৪টি জাহাজ। গত ১০ দিনে বাব আল-মান্দাব দিয়ে দৈনিক গড়ে প্রায় ২৬–২৭টি জাহাজ চলাচল করেছে।

কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার প্রণালিতে প্রবেশ করা জাহাজগুলোর মধ্যে একটি ছিল পূর্ণ বোঝাই ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (VLCC)। জাহাজটি ইরাকের বসরা থেকে অপরিশোধিত তেল নিয়ে মিসরের দিকে যাচ্ছিল। জাহাজটির স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বা AIS ট্রান্সপন্ডার চালু ছিল।

স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম

বাব আল-মান্দাব বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ। তবে গাজা যুদ্ধের পর থেকে ইয়েমেনের হুথিদের হামলা এবং জাহাজ চলাচল ঘিরে নিরাপত্তা ঝুঁকির কারণে এই নৌপথে বাণিজ্যিক জাহাজের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

সেপ্টেম্বরের শুরুতে কেপলার ও অন্যান্য জাহাজ ট্র্যাকিং তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যায়, বাব আল-মান্দাব দিয়ে দৈনিক প্রায় ২৬টি জাহাজ চলাচল করছিল। অথচ ২০২৩ সালের গাজা যুদ্ধ শুরুর আগে এই পথে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ৭০টি পণ্যবাহী ও তেলবাহী জাহাজ চলাচল করত।

২০২৪ সাল থেকে বড় বড় আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানির অনেকেই নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাবের পরিবর্তে আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে কেপ অব গুড হোপ হয়ে ইউরোপ-এশিয়া রুট ব্যবহার শুরু করে। এর ফলে যাত্রাপথ দীর্ঘ হয়েছে এবং পরিবহন ব্যয়ও বেড়েছে।

হরমুজের তুলনায় বাব আল-মান্দাবে চলাচল বেশি

বাব আল-মান্দাবে জাহাজ চলাচল তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল থাকলেও পারস্য উপসাগরের হরমুজ প্রণালিতে পরিস্থিতি আরও সংকুচিত হয়েছে। কেপলারের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার হরমুজ দিয়ে মাত্র ৯টি পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল করেছে আগের দিনের ১৪টির তুলনায় কম এবং ১০ দিনের গড় ১৮টিরও অনেক নিচে।

ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১২৫টি বড় বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত। এর মধ্যে ছিল তেলবাহী ট্যাংকার, গ্যাসবাহী জাহাজ, বাল্ক ক্যারিয়ার ও কনটেইনার জাহাজ। এই নৌপথ দিয়ে বিশ্বের দৈনিক অপরিশোধিত তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহন হতো।

তবে জাহাজ ট্র্যাকিংয়ের তথ্য বাস্তব চলাচলের তুলনায় কিছুটা কম হতে পারে। নিরাপত্তাজনিত কারণে কোনো কোনো জাহাজ AIS ট্রান্সপন্ডার বন্ধ রেখে চলাচল করলে সেগুলো কেপলারের হিসাবে ধরা পড়ে না।

ফলে বাব আল-মান্দাব দিয়ে বৃহস্পতিবার ২৬টি জাহাজ চলাচল করলেও, এই সংখ্যা এখনও গাজা যুদ্ধের আগের স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক কম। একই সঙ্গে হরমুজ ও বাব আল-মান্দাব দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথেই নিরাপত্তা পরিস্থিতি বৈশ্বিক বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করছে।