ইরানের ওপর মার্কিন চাপ ও অবরোধে সহযোগিতা না করতে ইরাকের পার্লামেন্ট সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ইরানপন্থী ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠী কাতাইব সাইয়্যিদ আল-শুহাদার নেতা আবু আলা আল-ওয়ালাই।
এক বিবৃতিতে আল-ওয়ালাই বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চাপিয়ে দেওয়া কোনো ‘অন্যায্য অবরোধের’ অংশ হওয়া উচিত নয় ইরাকের। তিনি ইরান অবরোধের বিষয়ে ইরাকের অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘অবরোধকে না’ বলতে হবে।
তিনি ইরাকি পার্লামেন্টের সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানান, তারা যেন সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করে এবং ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধে যুক্তরাষ্ট্রের দাবিগুলো প্রত্যাখ্যানের সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করে।
আল-ওয়ালাই তাঁর বক্তব্যে রাশিয়া ও চীনের উদাহরণও তুলে ধরেন। তাঁর দাবি, পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এবং তিনি যাকে ‘আদেশ চাপিয়ে দেওয়ার নীতি’ বলে অভিহিত করেছেন, তার বিরুদ্ধে দেশ দুটি নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে।
ইরান ও ইরাকের মধ্যে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তাগত সম্পর্ক রয়েছে। একই সময়ে ইরাক যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠ নিরাপত্তা ও কৌশলগত সম্পর্ক বজায় রাখে। ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের সংঘাত তীব্র হলে বাগদাদকে দুই পক্ষের চাপের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করতে হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ইরানঘনিষ্ঠ ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো এবং সরকারের মধ্যে সম্পর্কও আলোচনায় রয়েছে। বিভিন্ন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, কাতাইব সাইয়্যিদ আল-শুহাদা ইরানঘনিষ্ঠ মিলিশিয়াগুলোর অন্যতম এবং গোষ্ঠীটি ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত।
যুক্তরাষ্ট্র এর আগে কাতাইব সাইয়্যিদ আল-শুহাদাসহ কয়েকটি ইরানপন্থী ইরাকি সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। মে মাসে মার্কিন ট্রেজারি বিভাগও কাতাইব সাইয়্যিদ আল-শুহাদার নেতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছিল।
ইরাকের বর্তমান অবস্থান আরও জটিল হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ও ইরানের সঙ্গে অর্থনৈতিক নির্ভরতার কারণে। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য এবং জ্বালানি সম্পর্ক ইরাকের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কও ইরাকের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
এ অবস্থায় ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে সহযোগিতা করলে তেহরানপন্থী রাজনৈতিক ও সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরোধিতার মুখে পড়তে পারে বাগদাদ। আবার ওয়াশিংটনের চাপ উপেক্ষা করলে ইরাক নিজেই মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
এর আগে ইরানি বিমান সংস্থাগুলোর সঙ্গে বিমান চলাচল ও গ্রাউন্ড সার্ভিস নিয়েও ইরাককে মার্কিন চাপের মুখে সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছে। ফলে আল-ওয়ালাইয়ের সর্বশেষ আহ্বান ইরাকের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বিভাজন এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দ্বন্দ্বের মধ্যে বাগদাদের কঠিন অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে।
আল-ওয়ালাইয়ের বক্তব্য অবশ্য তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক ও গোষ্ঠীগত অবস্থানকে প্রতিফলিত করে; এটি ইরাকি সরকারের আনুষ্ঠানিক অবস্থান নয়। ইরানবিরোধী মার্কিন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে বাগদাদ শেষ পর্যন্ত কী অবস্থান নেয়, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে।