ইরানের বিরুদ্ধে 'ভুল পদক্ষেপ' নিলে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা হবে’: ইরানের হুঁশিয়ারি

যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের ‘ভুল পদক্ষেপ’ নিলে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা দেশটির সব সামরিক ঘাঁটি, মোতায়েনকেন্দ্র ও স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনা হামলার লক্ষ্যবস্তু হবে বলে সতর্ক করেছে ইরান। দেশটির শীর্ষ সামরিক অপারেশনাল কমান্ড খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স-এর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর।

এই সতর্কবার্তা এমন এক সময়ে এলো, যখন ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে দেওয়া সাত দিনের একটি প্রস্তাবের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে। ওই প্রস্তাবের আওতায় কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত বন্ধের পথ তৈরির কথা বলা হয়েছে।

মেহরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্য বর্তমানে ‘অত্যন্ত সংবেদনশীল নিরাপত্তা পরিস্থিতির’ মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় মার্কিন সামরিক তৎপরতা ও গতিবিধি নতুন করে উত্তেজনা বাড়ানোর আশঙ্কা তৈরি করেছে। তবে একই সঙ্গে রাজনৈতিক যোগাযোগ ও মধ্যস্থতার চেষ্টাও অব্যাহত রয়েছে।

ইরানের সামরিক কমান্ডের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ তুলে ধরে মেহর বলেছে, ইরান যুদ্ধ শুরু করবে না; কিন্তু শত্রুপক্ষ যুদ্ধ চাপিয়ে দিলে দেশের নিরাপত্তা ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষায় আত্মরক্ষার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

এর আগে ২০ সেপ্টেম্বর খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স আরও কঠোর ভাষায় সতর্ক করে বলেছিল, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বা আঞ্চলিক কোনো দেশের ‘শত্রুতামূলক পদক্ষেপ’ হলে ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর অবস্থান ও স্বার্থের ওপর ‘ধারাবাহিক, কার্যকর ও বেদনাদায়ক’ হামলা চালানো হবে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, তেহরান যুক্তরাষ্ট্রকে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে একটি ‘সুনির্দিষ্ট’ সাত দিনের পরিকল্পনা দিয়েছে। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ হলে সাত দিনের মধ্যে প্রণালিতে স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফিরিয়ে আনা সম্ভব বলে তিনি জানান। তাঁর ভাষায়, এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব যুক্তরাষ্ট্রের।

ইরানের প্রস্তাবে যুদ্ধবিরতি, ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, আটকে থাকা ইরানি অর্থ ছাড় এবং ইরানি তেল রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার মতো বিষয় রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, সাত দিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলে হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।

তেহরান জানিয়েছে, কাতারের মধ্যস্থতায় ওয়াশিংটনের কাছে এ বার্তা পৌঁছানো হয়েছে। তবে ২৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এক প্রতিবেদনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে দাবি করা হলেও ইরান এখনো ওয়াশিংটনের আনুষ্ঠানিক জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে।

ইরানের সামরিক হুঁশিয়ারি এবং কূটনৈতিক উদ্যোগ—দুটি বিষয়ই বর্তমানে পাশাপাশি চলছে। একদিকে তেহরান বলছে, যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে আঞ্চলিক মার্কিন স্বার্থ ও ঘাঁটিগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে; অন্যদিকে হরমুজ খুলে দেওয়া ও সংঘাত বন্ধে সাত দিনের রোডম্যাপের মাধ্যমে আলোচনার পথও খোলা রাখছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান হরমুজ পুনরায় খুলে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেও দেশটির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে তেহরান কোনো ছাড় দিতে প্রস্তুত নয়।

ফলে সামনের দিনগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতির দুটি সম্ভাব্য দিক স্পষ্ট হয়ে উঠছে—কূটনৈতিক যোগাযোগের মাধ্যমে সংঘাত কমানোর চেষ্টা এবং একই সঙ্গে সামরিক প্রতিরোধের বার্তা জোরদার করা। হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ এবং যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিক্রিয়া এ দুই ধারার মধ্যে কোনটি প্রাধান্য পাবে, তা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।