রাশিয়া-ইউক্রেনের পাল্টাপাল্টি হামলায় নিহত ১০

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বিমান ও ড্রোন হামলায় অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ইউক্রেনে রুশ হামলায় চারজন এবং রাশিয়া ও রুশ-নিয়ন্ত্রিত এলাকায় ইউক্রেনীয় হামলায় ছয়জন নিহত হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

শনিবারের এসব হামলার মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া শহরে রুশ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে দুই নারী নিহত হন বলে আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসন জানিয়েছে।

এ ছাড়া সুমি শহরে পৃথক রুশ হামলায় আরও দুইজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

কিয়েভ অঞ্চলেও রুশ ড্রোন হামলার খবর পাওয়া গেছে। বোরিসপিল এলাকায় একটি গুদামে আগুন ধরে গেলে দুজন আহত হন। কিয়েভের বিভিন্ন এলাকায় ড্রোন হামলায় আরও চারজন আহত এবং আবাসিক ও দপ্তর ভবনের ক্ষতি হয়েছে বলে ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কিয়েভে হামলায় মোবাইল ইন্টারনেট সেবা ও স্টারলিংক উপগ্রহ যোগাযোগ-ব্যবস্থাকে সহায়তা করা একটি তথ্যকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এই দাবির বিস্তারিত স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

অন্যদিকে ইউক্রেনও রাশিয়ার তেল শোধনাগার ও শিল্প স্থাপনায় দূরপাল্লার ড্রোন হামলা অব্যাহত রেখেছে।

রাশিয়ার দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় তিনজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় গভর্নর ভেনিয়ামিন কন্দ্রাতিয়েভ জানিয়েছেন। তাঁর দাবি, হামলায় দুটি শিল্প স্থাপনায় আগুন ধরে যায়।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি পরে দাবি করেন, ওই অঞ্চলের ইলস্কি তেল শোধনাগারও হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এ ছাড়া রুশ-নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া অঞ্চলে ইউক্রেনীয় হামলায় আরও তিনজন নিহত হয়েছেন বলে রুশপন্থি আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান ইয়েভগেনি বালিতস্কি জানিয়েছেন।

জেলেনস্কিকে পুতিনের সঙ্গে সমঝোতার আহ্বান ট্রাম্পের

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর শনিবার ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে মন্তব্য করেন ট্রাম্প।

তিনি বলেন, জেলেনস্কি ও পুতিনের মধ্যে সমঝোতা হওয়া প্রয়োজন। ট্রাম্পের ভাষ্য, তিনি চান জেলেনস্কি পুতিনের সঙ্গে একটি চুক্তিতে পৌঁছান এবং পুতিনও জেলেনস্কির সঙ্গে সমঝোতায় আসুন।

ট্রাম্প বলেন, দুই নেতা হয়তো কোনো এক সময়, সম্ভবত শীত তীব্র হওয়ার আগেই, একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেন।

এর আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন ট্রাম্প। জেলেনস্কি জানিয়েছিলেন, যুদ্ধ বন্ধে হোয়াইট হাউস সহায়তা করতে পারে বলে তিনি আশাবাদী।

হামলা-পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকলেও কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে।

জেলেনস্কি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র রাশিয়া, ইউক্রেন ও যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের নিয়ে একটি বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছে এবং সম্ভাব্য বৈঠকের স্থান হিসেবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের কথা বলা হয়েছে।

রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনও জানিয়েছেন, যুদ্ধের সমাধান নিয়ে বিভিন্ন প্রস্তাব এখনো আলোচনার টেবিলে রয়েছে। তবে মস্কো কোন প্রস্তাব তার স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তা বিবেচনা করছে। রুশ প্রেসিডেন্ট আরও বলেছেন, দেশটির সংসদীয় নির্বাচন শেষ হওয়ার পর মস্কো কিয়েভের সঙ্গে আলোচনায় ফিরতে প্রস্তুত।

তবে জেলেনস্কি শনিবার রাতে দেওয়া বক্তব্যে বলেন, রাশিয়া এই মুহূর্তে যুদ্ধ শেষ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে না। তাঁর অভিযোগ, পুতিন আলোচনা ও যুদ্ধ বন্ধ না করার জন্য বিভিন্ন অজুহাত খুঁজছেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে জেলেনস্কি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তাঁর মতে, নিষেধাজ্ঞা ও বাণিজ্যিক বিধিনিষেধের মাধ্যমে রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার অর্থনৈতিক সক্ষমতা কমানো যেতে পারে।

অন্যদিকে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ জাতিসংঘে ইউরোপের বিরুদ্ধে শান্তি আলোচনা বাধাগ্রস্ত করার অভিযোগ তুলেছেন। তাঁর দাবি, ইউরোপ ট্রাম্প প্রশাসনের আগ্রহ থাকা শান্তি আলোচনাকে ব্যাহত করার জন্য সবকিছু করছে।

লাভরভ একই সঙ্গে বলেছেন, ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক লক্ষ্য অর্জিত হবে এবং এরপর সেখানে শান্তিপূর্ণ জীবন ফিরবে।

রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সম্মুখভাগে বড় ধরনের অগ্রগতি ধীর হলেও আকাশপথে হামলার মাত্রা অব্যাহত রয়েছে। রাশিয়া ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, গ্লাইড বোমা এবং জেটচালিত ড্রোন ব্যবহার করছে বলে ইউক্রেন জানিয়েছে। বিপরীতে ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামো, তেল শোধনাগার ও শিল্প স্থাপনায় দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।

ফলে একদিকে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক উদ্যোগের কথা সামনে এলেও অন্যদিকে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে। সর্বশেষ প্রাণহানির ঘটনাগুলোও দেখাচ্ছে, কূটনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি যুদ্ধক্ষেত্রের উত্তেজনাও এখনো কমেনি।