ইরান-যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক সংঘাত শেষ হয়ে যায়নি বলে মন্তব্য করেছেন ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল আমির হাতামি। একই সঙ্গে শত্রুর বিরুদ্ধে আরও কঠিন আঘাত হানার জন্য দেশটির সশস্ত্র বাহিনীকে প্রস্তুত থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) দেওয়া এক বক্তব্যে হাতামি বলেন, ‘আমরা জয়ী হয়েছি, কিন্তু এই জয় ধরে রাখতে হবে।’ তার ভাষ্য, বর্তমান পরিস্থিতি এখনো গুরুত্বপূর্ণ ও নির্ধারক পর্যায়ে রয়েছে। তাই সামরিক বাহিনীকে ভবিষ্যৎ সম্ভাব্য সংঘাতের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। হাতামির বক্তব্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সংঘাতে ইরান নিজেদের সামরিক সক্ষমতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। তবে অর্জিত সামরিক অবস্থানকে স্থায়ী করতে হলে প্রস্তুতি অব্যাহত রাখা জরুরি।
ইরানের সেনাপ্রধান এর আগেও সম্ভাব্য নতুন হামলার বিষয়ে সতর্ক করে বলেছেন, সশস্ত্র বাহিনী শত্রুপক্ষের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে এবং নতুন কোনো হুমকি দেখা দিলে জবাব দেওয়ার জন্য প্রস্তুত রয়েছে। ইরানের সামরিক নেতৃত্বের সর্বশেষ বক্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সামরিক উত্তেজনার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি নিয়ে কূটনৈতিক টানাপোড়েনও চলছে।
ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় স্বাভাবিকভাবে খুলে দেওয়ার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক চাপ ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার প্রস্তাব দিয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাত দিনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এর ফলে সামরিক সংঘাত পুনরায় বাড়ার আশঙ্কা নিয়ে আলোচনা চলছে। যদিও নতুন করে বড় ধরনের মার্কিন হামলা শুরু হবে এমন কোনো নিশ্চিত ঘোষণা এখনো দেওয়া হয়নি।
‘জয়’ ধরে রাখার বার্তা
হাতামির ‘আমরা জয়ী হয়েছি’ মন্তব্যটি মূলত ইরানের সামরিক নেতৃত্বের নিজস্ব মূল্যায়ন। যুদ্ধক্ষেত্রে দুই পক্ষের ক্ষয়ক্ষতি, সামরিক সক্ষমতা এবং কৌশলগত অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল ও ইরানের বক্তব্যের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। ফলে তার এই মূল্যায়নকে স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত সামরিক ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করা যায় না। তবে বক্তব্যটির রাজনৈতিক ও সামরিক তাৎপর্য রয়েছে। এর মাধ্যমে তেহরান দেখাতে চাইছে, সাম্প্রতিক সংঘাতের পরও দেশটির সামরিক কাঠামো কার্যকর রয়েছে এবং সম্ভাব্য নতুন সংঘাতের জন্য তারা প্রস্তুতি বজায় রাখছে।
হাতামির বক্তব্যের মূল বার্তা হলো- সাম্প্রতিক সংঘাতের একটি পর্যায় শেষ হলেও ইরানের সামরিক প্রস্তুতি শেষ হয়নি। বরং সম্ভাব্য নতুন হামলা মোকাবিলায় প্রস্তুতি ধরে রাখার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে পাল্টা সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতিও বজায় রাখছে তেহরান। ফলে আগামী দিনগুলোতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক যোগাযোগ, হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি এবং উভয় পক্ষের সামরিক অবস্থান এই তিনটি বিষয় সংঘাতের পরবর্তী গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।