অভিবাসীদের অন্য দেশে পাঠাতে পারবে ট্রাম্প প্রশাসন

অভিবাসীদের নিজ দেশের বদলে অন্য দেশে পাঠানোর কার্যক্রম আবার শুরু করতে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে আপাতত অনুমতি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) দেশটির বিচার বিভাগের জরুরি আবেদন মঞ্জুর করে আদালত এ আদেশ দেন।

একইসঙ্গে এ নীতির বৈধতা নিয়ে আগামী ডিসেম্বরে শুনানি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সুপ্রিম কোর্ট। এর আগে বোস্টনের ফেডারেল বিচারক ব্রায়ান মারফি ট্রাম্প প্রশাসনের এ নীতিকে বেআইনি ঘোষণা করেছিলেন। রায়ে বলা হয়, কোনো অভিবাসীকে তৃতীয় দেশে পাঠানোর আগে তাকে সেই দেশের বিষয়ে জানাতে হবে এবং সেখানে নিপীড়ন বা নির্যাতনের আশঙ্কা থাকলে তা জানানোর সুযোগ দিতে হবে।

গত ১৮ সেপ্টেম্বর ফেডারেল আপিল আদালত মারফির রায়ের বেশির ভাগ অংশ বহাল রাখেন। তবে সুপ্রিম কোর্ট এখন সেই রায় স্থগিত করেছেন। বিচারপতি সোনিয়া সোটোমায়র, এলেনা কাগান ও কেতানজি ব্রাউন জ্যাকসন এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন।

ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, কোনো অভিবাসীকে তার নিজের দেশে ফেরত পাঠানো সম্ভব না হলে তাকে তৃতীয় দেশে পাঠানোর সুযোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে কোনো দেশ তার নাগরিককে নিতে অস্বীকৃতি জানালে এ ব্যবস্থা কাজে আসে। অন্যদিকে অভিবাসীদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর অভিযোগ, এ নীতিতে এমন দেশেও মানুষকে পাঠানো হতে পারে, যেখানে তাদের কোনো সম্পর্ক নেই এবং তারা নির্যাতনের ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর হিসাবে, গত বছর এ নীতি চালুর পর ২৫ হাজারের বেশি অভিবাসীকে ২৯টি তৃতীয় দেশে পাঠানো হয়েছে। তাদের বেশির ভাগকে মেক্সিকোতে পাঠানো হয়। জাতিসংঘের একদল মানবাধিকার বিশেষজ্ঞও সোমবার যুক্তরাষ্ট্রকে এ ধরনের প্রত্যাবাসন বন্ধ করার আহ্বান জানান। তাদের আশঙ্কা, কিছু অভিবাসী তৃতীয় দেশে গিয়ে নিপীড়ন, নির্যাতন বা অন্য মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হতে পারেন।