'মার্কিন-ইসরায়েল আগ্রাসনে নীরবতা মানেই সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ততা'

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক আগ্রাসন, বেসামরিক মানুষ হত্যা এবং অবকাঠামো ধ্বংসকে ‘রাষ্ট্রীয় সহিংসতার’ স্পষ্ট উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গরিবাবাদি। একই সঙ্গে এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে নীরব থাকাকে সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ততা হিসেবে অভিহিত করেছেন তিনি।

আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় গরিবাবাদি এসব মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএ।

গরিবাবাদি বলেন, আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস একটি তিক্ত বাস্তবতা স্মরণ করার সুযোগ করে দেয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যখন সামরিক আগ্রাসন, বেসামরিক মানুষ হত্যা এবং অবকাঠামো ধ্বংসের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের মানুষের নিরাপত্তা ও জীবনকে লক্ষ্যবস্তু করে, তখন সেটি রাষ্ট্রীয় সহিংসতার সবচেয়ে স্পষ্ট রূপগুলোর একটি।

তিনি আরও বলেন, এসব অপরাধের বিষয়ে নীরব থাকা সহিংসতার সঙ্গে সম্পৃক্ততার শামিল।

ইরানি এই কর্মকর্তা তাঁর বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তুলেছেন। তবে এসব অভিযোগ ইরানি সরকারের অবস্থান হিসেবে উপস্থাপিত হয়েছে; স্বাধীনভাবে এসব দাবির সবগুলো যাচাই করা হয়নি।

আন্তর্জাতিক অহিংসা দিবস প্রতি বছর ২ অক্টোবর পালিত হয়। জাতিসংঘের উদ্যোগে দিবসটি অহিংসা ও শান্তিপূর্ণ উপায়ে বিরোধ নিষ্পত্তির গুরুত্ব তুলে ধরার একটি উপলক্ষ হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের মধ্যে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে গরিবাবাদির এই বক্তব্য এসেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তেহরান আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে আসছে এবং বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি সম্মান দেখানোর আহ্বান জানিয়ে আসছে।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল তাদের সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে জাতীয় নিরাপত্তা ও সামরিক লক্ষ্য অর্জনের যুক্তি তুলে ধরে আসছে। ফলে সংঘাতের বিভিন্ন ঘটনায় বেসামরিক হতাহত, অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি এবং আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্নও আলোচনায় রয়েছে।

গরিবাবাদির বক্তব্যে মূলত এই বার্তাই উঠে এসেছে—অহিংসার কথা বলার পাশাপাশি সামরিক আগ্রাসন ও বেসামরিক মানুষের ওপর হামলার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াকে তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব হিসেবে দেখছেন।