ইরানের মুদ্রা রিয়াল আবারও রেকর্ড সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমেছে। শনিবারের (৩ অক্টোবর) লেনদেনে খোলা বাজারে প্রতি মার্কিন ডলারের দাম প্রায় ২ দশমিক ৭ মিলিয়ন রিয়ালে উঠে যায়। একই সময়ে ইউরোর দাম ৩ মিলিয়ন রিয়াল ছাড়িয়েছে। চলতি সপ্তাহের শুরুতে ডলারের দাম ছিল প্রায় ২ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন রিয়াল; অর্থাৎ কয়েক দিনের মধ্যেই রিয়ালের মূল্য আরও ৮ শতাংশের বেশি কমেছে।
এক বছর আগে ডলারের দাম ছিল আনুমানিক ১ দশমিক ১ মিলিয়ন রিয়াল। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে ডলারের বিপরীতে রিয়ালের অবমূল্যায়ন ব্যাপকভাবে বেড়েছে। দীর্ঘদিনের নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ইরানের তেল রপ্তানিতে বাধা এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব এ দরপতনের পেছনে রয়েছে।
রিয়ালের এই পতনের মধ্যেই ইরান যুদ্ধ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ওয়াশিংটনে আলোচনা চলছে। শুক্রবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তারা ক্যাম্প ডেভিডে গোপন বৈঠক করেন। বৈঠকে ইরান যুদ্ধ এবং ইয়েমেনে সৌদি-হুথি সংঘাতের পরবর্তী কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে মার্কিন কর্মকর্তাদের উদ্ধৃত করে Axios জানিয়েছে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির হয়ে পড়ার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র ইরানে বড় ধরনের সামরিক অভিযান পুনরায় শুরু করবে কি-না, সেটিও আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হচ্ছে; অতিরিক্ত কয়েক হাজার সেনা ও যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের খবরও এসেছে। ইরানের অর্থনৈতিক সংকটের সঙ্গে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি সরাসরি যুক্ত। তেহরান প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে পরোক্ষ আলোচনার চেষ্টা করছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি জানিয়েছেন, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় এ বিষয়ে যোগাযোগ চলছে।
তবে একই সময়ে ইরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আবার বড় ধরনের হামলা চালালে তারা আরও ব্যাপক সামরিক জবাবের প্রস্তুতি নিচ্ছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানি সামরিক কর্মকর্তারা সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার পরিধি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থাপনার বাইরেও বিস্তৃত করার পরিকল্পনা পর্যালোচনা করছেন। ফলে রিয়ালের নতুন রেকর্ড দরপতন শুধু মুদ্রাবাজারের ঘটনা নয়; যুদ্ধ, তেল রপ্তানিতে বাধা, নিষেধাজ্ঞা, হরমুজ প্রণালির অনিশ্চয়তা এবং সম্ভাব্য নতুন সামরিক সংঘাত সবগুলো চাপ একই সঙ্গে ইরানের অর্থনীতিতে কাজ করছে।