ইরান যুদ্ধ ইস্যুতে বাড়ছে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে সমালোচনা 

যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসন কর্তৃক ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত পরিণতি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের মধ্যে অসন্তোষ তীব্র আকার ধারণ করেছে। ক্রমবর্ধমান এই সংঘাতের আর্থিক ও সামাজিক অভিঘাত সাধারণ মার্কিন নাগরিকদের জীবনযাত্রাকে কঠিন করে তুলেছে বলে তারা অভিযোগ করেছেন।

সিনেটর ক্রিস মারফি উল্লেখ করেছেন যে, এই যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের বাজার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে ডিজেলের মূল্য যুদ্ধপূর্ব অবস্থার তুলনায় দ্বিগুণ হওয়ায় সামগ্রিক পণ্য পরিবহন ও ভোক্তা পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির মারাত্মক চাপ তৈরি হয়েছে।

সংঘাতের পরিধি আরও বাড়ানোর অংশ হিসেবে ইরানে অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার মার্কিন সেনা মোতায়েনের সিদ্ধান্তকে উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন। তার মতে, কংগ্রেসের সাংবিধানিক ক্ষমতার প্রয়োগ করে অবিলম্বে এই সামরিক অভিযানের বাজেট বরাদ্দ ও অর্থায়ন বন্ধ করা উচিত।

এর আগে ভ্যান হোলেন ও সিনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন যৌথভাবে ইরানি ভূখণ্ডে বেসামরিক লোকজনের হতাহতের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছিলেন। ওয়ারেনের মতে, এই সংকটের বহুমুখী প্রভাবের ফলে আবাসন ও গৃহায়ণ খাতের ব্যয়ও অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।

প্রতিনিধি পরিষদের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকিম জেফরিস যুদ্ধের কারণে খাদ্য ও জ্বালানির লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির তীব্র সমালোচনা করেছেন। এই যুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলা ও প্রশাসনিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ডেমোক্র্যাটরা 'ওয়ার পাওয়ার্স রেজোল্যুশন' বা যুদ্ধ ক্ষমতা আইন প্রয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

অন্যদিকে, প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য জেমস ওয়াকিনশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের বিতর্কিত সামরিক নীতি ও মন্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে তার অভিশংসন দাবি করেছেন। পাশাপাশি, ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি জিম ম্যাকগভর্ন রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ অপচয় রোধে অবিলম্বে এই ব্যয়বহুল সংঘাতের সমাপ্তি টানার পক্ষে জোরালো অবস্থান নিয়েছেন।

সূত্র: রয়টার্স