ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ কমান্ডার আলী ফাদাভি রোববার দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে উপস্থিত হয়েছেন। এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়িয়ে পড়ে, ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে উপস্থিত হয়ে ফাদাভি এসব গুজবের বিষয়ে সরাসরি কোনো বিস্তারিত বক্তব্য না দিলেও তার প্রকাশ্য উপস্থিতি তাকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া নানা দাবির বিপরীত চিত্র তুলে ধরে। ফাদাভিকে নিয়ে এ ধরনের গুজব নতুন নয়। ২০২৫ সালেও ইসরায়েল-ইরান সংঘাতের সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বা তিনি নিহত হয়েছেন—এমন দাবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়েছিল। পরে সেসব দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এবারের উপস্থিতিতে ফাদাভি তার স্ত্রীকে নিয়েও কথা বলেন। তার স্ত্রীর পরিণতি নিয়েও আলাদা গুজব ছড়িয়েছিল। ফাদাভি জানান, ২০২৫ সালের ১২ দিনের যুদ্ধে তার স্ত্রী নিহত হন।
তিনি বলেন, তার প্রয়াত স্ত্রী ‘শাজারেহ তাইয়্যেবেহ’ স্কুলগুলোর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এবং দেশজুড়ে ৯৭টি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। এসব স্কুলের একটি ইরানের মিনাব শহরে যুদ্ধের সময় হামলার শিকার হয়।
ফাদাভি বলেন, “আমি আমার প্রয়াত স্ত্রীকে স্মরণ করতে চাই, যিনি ১২ দিনের যুদ্ধে নিহত হয়েছেন। তিনি শাজারেহ তাইয়্যেবেহ স্কুলগুলোর প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন এবং ৯৭টি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।”
মিনাবের স্কুলে হামলাটি ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে সামনে এসেছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের হিসাবে ওই হামলায় শিশু ও শিক্ষকসহ বহু মানুষ নিহত হন। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম পিবিএসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলায় ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন এবং নিহতদের বড় অংশ ছিল স্কুলশিক্ষার্থী।
ইরানের সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিমের সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিনাবের শাজারেহ তাইয়্যেবেহ স্কুলে হামলায় নিহত ১৬৮ শিশু ও শিক্ষক নতুন শিক্ষাবর্ষে আর শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পারেননি।
আলী ফাদাভি আইআরজিসির গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডারদের একজন। ২০২৫ সালের জুনে ইরানে ইসরায়েলি হামলার সময়ও তাকে নিয়ে মৃত্যুর গুজব ছড়িয়েছিল। তৎকালীন প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, এসব দাবি দ্রুতই মিথ্যা প্রমাণিত হয় এবং ফাদাভি জীবিত ছিলেন ও সামরিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিলেন।
এবারও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে ইসরায়েলের হয়ে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগ এবং মৃত্যুদণ্ডের দাবি ছড়িয়ে পড়লেও নির্ভরযোগ্য সূত্রে এমন কোনো মৃত্যুদণ্ডের তথ্য নিশ্চিত হয়নি। বরং রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে তার উপস্থিতি দেখায় যে অন্তত প্রকাশ্যভাবে তিনি সক্রিয় রয়েছেন।
ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে দেশটির সামরিক ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নিয়ে গুজব ছড়িয়ে পড়া নতুন ঘটনা নয়। যুদ্ধকালীন তথ্যের প্রবাহে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যাচাইহীন দাবি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় এসব তথ্যের ক্ষেত্রে সরকারি ঘোষণা ও একাধিক নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন মিলিয়ে দেখা গুরুত্বপূর্ণ।