ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ কমান্ডার হোসেইন-রেজা সাদেঘি এবং তাঁর ছেলে সাঈদ আইআরজিসির গোয়েন্দা শাখার তেল বিক্রয় নেটওয়ার্ক টিকিয়ে রাখা এবং এর আর্থিক কার্যক্রম সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকে রাশিয়ায় সরিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন বলে দাবি করেছে ইরান ইন্টারন্যাশনালের এক অনুসন্ধান।
প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞার আওতায় থাকা ইরানি তেল বিক্রি থেকে পাওয়া অর্থ স্থানান্তরের যে ব্যবস্থা এতদিন সংযুক্ত আরব আমিরাতকেন্দ্রিক ছিল, সেটিকে রাশিয়ায় স্থানান্তরের উদ্যোগের কেন্দ্রে ছিলেন সাদেঘি ও তাঁর ছেলে।
ইরান ইন্টারন্যাশনালকে দেওয়া দুই সংশ্লিষ্ট সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, আইআরজিসির কমান্ডার-ইন-চিফের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সাদেঘি এবং তাঁর ছেলে এই আর্থিক কাঠামো পুনর্গঠনের প্রচেষ্টায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন।
আমিরাত থেকে রাশিয়ায় কেন?
অনুসন্ধান অনুযায়ী, নিষেধাজ্ঞার কারণে ইরানের তেল বিক্রির অর্থ আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার মাধ্যমে সরাসরি স্থানান্তর করা কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় তেল বিক্রির অর্থ পরিচালনা ও স্থানান্তরের জন্য বিকল্প নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে।
এই প্রক্রিয়ায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের পরিবর্তে রাশিয়াকে নতুন আর্থিক কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
তবে এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে কত অর্থ স্থানান্তর হয়েছে, কত পরিমাণ তেল বিক্রি হয়েছে এবং রাশিয়ায় এর সুনির্দিষ্ট আর্থিক কাঠামো কী—এসব বিষয়ে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
ইরান ইন্টারন্যাশনালের অনুসন্ধানে ব্যবহৃত তথ্যের মধ্যে দুই ‘সংশ্লিষ্ট সূত্রের’ বক্তব্য রয়েছে। ফলে সাদেঘি ও তাঁর ছেলের ভূমিকা এবং কথিত নেটওয়ার্কের পূর্ণাঙ্গ কার্যক্রম স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
ইরানের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকার মধ্যে দেশটির তেল রপ্তানি ও এর অর্থ স্থানান্তরের বিকল্প পথ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা প্রতিবেদন প্রকাশ হয়ে আসছে। নতুন এই অনুসন্ধান সেই প্রেক্ষাপটে আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট একটি কথিত আর্থিক নেটওয়ার্কের রাশিয়ামুখী পরিবর্তনের দাবি সামনে আনল।