কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখেও পিছু হটবে না ইরান

যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ও চলমান যুদ্ধের প্রভাবে ইরানের অর্থনীতিতে চাপ বাড়লেও কোনোভাবেই পিছু হটবে না তেহরান—এমন বার্তাই বারবার দিচ্ছে দেশটির সরকার। বিশেষ করে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ইরানি মুদ্রা রিয়ালের বড় ধরনের দরপতনের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের অর্থনীতি ধসিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হবে না বলে জোর দিচ্ছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

তেহরান থেকে সাংবাদিক রানিয়া কাসেমির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে ইরানের সরকারি বিবৃতিগুলোতে যুদ্ধের সামরিক দিকের পাশাপাশি এর অর্থনৈতিক প্রভাবকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দেশটির সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞার প্রভাব ক্রমেই দৃশ্যমান হয়ে উঠছে।

বিশেষ করে ডলারের বিপরীতে জাতীয় মুদ্রা রিয়ালের দ্রুত অবমূল্যায়ন ইরানের অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করেছে। এর ফলে আমদানি ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

তবে ইরানের কর্মকর্তারা বলছেন, অর্থনৈতিক চাপ সত্ত্বেও সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আবদোলনাসের হেম্মাতি জানিয়েছেন, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে ইরানের কোনো সমস্যা নেই।

বিনিময় হার নিয়ন্ত্রণে বাজারে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত সরবরাহ করার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

হেম্মাতি আরও বলেছেন, সরকারি খাতকে সহায়তা দেওয়ার জন্য সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপ অব্যাহত রয়েছে। অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও সরকারি কার্যক্রম এবং জনসাধারণের প্রয়োজনীয় সেবা সচল রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

ইরানের জন্য বর্তমান পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জগুলোর একটি হলো অর্থনৈতিক চাপের সঙ্গে মুদ্রাবাজারের অস্থিরতা সামাল দেওয়া। যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা দেশটির বৈদেশিক বাণিজ্য, আর্থিক লেনদেন ও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশাধিকারকে দীর্ঘদিন ধরেই সীমিত করে রেখেছে।

এর সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি যুক্ত হওয়ায় অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। ডলারের মূল্য বৃদ্ধি রিয়ালের ওপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানিনির্ভর পণ্য ও কাঁচামালের দামেও প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে ইরানের সরকারি বক্তব্যের মূল বার্তা হলো—অর্থনৈতিক সংকটকে কেন্দ্র করে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। বরং মুদ্রাবাজারে হস্তক্ষেপ, বৈদেশিক মুদ্রার ব্যবস্থাপনা এবং সরকারি সহায়তার মাধ্যমে অর্থনীতিকে সচল রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাবে।

এদিকে অর্থনীতিবিদদের জন্য বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে কয়েক বিলিয়ন ডলার সরবরাহ এবং সরকারি সহায়তা কতটা সময় রিয়ালের ওপর চাপ কমাতে পারে। দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ ও নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত থাকলে মুদ্রাবাজারের স্থিতিশীলতা ধরে রাখা আরও কঠিন হতে পারে।

তাই ইরানের বর্তমান অর্থনৈতিক লড়াই কেবল ডলারের বিপরীতে রিয়ালের দর ধরে রাখার বিষয় নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নিষেধাজ্ঞা মোকাবিলা, বৈদেশিক বাণিজ্য সচল রাখা এবং যুদ্ধকালীন অর্থনীতিকে কার্যকর রাখার সক্ষমতা।