ইরানে ফের বড় সামরিক অভিযান, প্রস্তুতির নির্দেশ পেন্টাগনের

ইরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান আবারও শুরু করার প্রস্তুতি নিতে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডকে (CENTCOM) নির্দেশ দিয়েছে পেন্টাগন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম Axios-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে—এমন সম্ভাবনাও মার্কিন সামরিক পরিকল্পনায় বিবেচনায় রাখা হচ্ছে।

তবে এখন পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে নতুন করে বড় হামলা চালানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেননি। অর্থাৎ পেন্টাগনের প্রস্তুতির নির্দেশকে তাৎক্ষণিক হামলার অনুমোদন হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।

Axios-এর তথ্য অনুযায়ী, পেন্টাগনের নির্দেশের লক্ষ্য হলো ইরানের বিরুদ্ধে বড় পরিসরের সামরিক অভিযান প্রয়োজন হলে দ্রুত তা বাস্তবায়নের জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত রাখা।

এর আগে গত সেপ্টেম্বরের শেষ দিকেও Axios জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় ওয়াশিংটনের কিছু কর্মকর্তা পুনরায় বড় সামরিক অভিযানের সম্ভাবনা নিয়ে প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। তখনও ধারণা করা হয়েছিল, মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ট্রাম্প এমন সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।

এখন নতুন নির্দেশের মধ্য দিয়ে সেই সামরিক প্রস্তুতি আরও সক্রিয় পর্যায়ে নেওয়া হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

Axios-এর বর্তমান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন করে অভিযান শুরু হলে তা বড় ধরনের বোমাবর্ষণভিত্তিক হতে পারে। সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, জ্বালানি অবকাঠামো এবং অন্যান্য কৌশলগত সামরিক স্থাপনা থাকতে পারে।

তবে কোন কোন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানো হবে, কী ধরনের সামরিক শক্তি ব্যবহার করা হবে বা অভিযান কতদিন চলবে—এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আগে ইরান নিয়ে সামরিক সিদ্ধান্তের সম্ভাবনা রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক—দুই দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

Axios জানিয়েছে, ট্রাম্প সম্প্রতি ক্যাম্প ডেভিডে জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠক করেছেন এবং ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দুবার কথা বলেছেন। এসব যোগাযোগ ইরান ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের সমন্বয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে এসব বৈঠক থেকেই নতুন হামলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—এমন দাবি করা হয়নি।

নতুন করে মার্কিন হামলা শুরু হলে ইরানের পাল্টা প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি নিয়েও আলোচনা চলছে। Axios-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান পাল্টা হামলা চালালে ইসরায়েলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সম্ভাবনা রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো আশঙ্কা করছে।

এর আগে Reuters-ও জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের হামলা পুনরায় শুরু করলে ইরান আরও কঠোর সামরিক প্রতিক্রিয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সম্ভাব্য পাল্টা হামলার লক্ষ্য শুধু মার্কিন সামরিক স্থাপনায় সীমাবদ্ধ না রেখে মিত্র দেশগুলোর অবস্থান এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাইরের কিছু লক্ষ্যেও বিস্তৃত করার বিষয়টি ইরানের সামরিক নেতৃত্ব বিবেচনা করছে বলে Reuters-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

ইরান নিয়ে নতুন করে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও শক্তিশালী করা হচ্ছে। Axios-এর আরেক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরব ও কাতারের গুরুত্বপূর্ণ তেল-গ্যাস স্থাপনা রক্ষায় যুক্তরাষ্ট্র অতিরিক্ত দুটি প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে। একই সময়ে মার্কিন নৌবাহিনী, বিমান ও সেনা উপস্থিতিও জোরদার করা হচ্ছে।

ফলে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চললেও সামরিক প্রস্তুতি সমান্তরালে এগিয়ে চলছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার বর্তমান পর্যায়ে সামরিক প্রস্তুতি বাড়লেও কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। Axios-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনায় অগ্রগতি সীমিত হলেও মধ্যস্থতাকারীরা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন সামরিক বিকল্প প্রস্তুত রাখছে। ফলে সামনে দুটি সম্ভাবনা স্পষ্ট—আলোচনার মাধ্যমে নতুন সমঝোতার চেষ্টা অথবা আবারও বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে ফিরে যাওয়া।