ঝাড়খণ্ডের রামগড় জেলার সসো গ্রামের লড়াকু নারী কবিতা কুমারী নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে গোটা দেশবাসীর নজর কেড়েছেন। তিন বছর আগে স্বামীর মৃত্যুর পর দুই সন্তানকে নিয়ে অথৈ জলে পড়েন এই তরুণী। সংসারের অভাব ঘোচাতে প্রথমে একটি বেসরকারি সংস্থায় সিকিউরিটি গার্ডের চাকরি নেন তিনি। তবে পরিবারের স্থায়ী ও সম্মানজনক ভবিষ্যতের আশায় তিনি সরকারি চাকরির স্বপ্ন দেখা শুরু করেন।
পুলিশ ও হোম গার্ডের নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে প্রতিদিন ভোর চারটায় ঘুম থেকে উঠতেন কবিতা। ছেলেমেয়েদের ঘুম ভাঙার আগেই গ্রামের মেঠোপথে শুরু হতো তার একা দৌড়ঝাঁপ। কিন্তু অর্থাভাবে একজোড়া দৌড়ের জুতো বা ট্র্যাকিং পোশাক কেনার সামর্থ্য তার ছিল না। প্রতিদিনের এই অনুশীলনেই তৈরি হয়েছিল তার ইস্পাতকঠিন মনোবল।
সম্প্রতি অফিশিয়াল সিলেকশন ড্রাইভের আগে স্থানীয় একটি ট্রেনিং একাডেমি বিশেষ ট্রায়াল রানের আয়োজন করে। বাকি প্রতিযোগীদের ভিড়ে গায়ে শাড়ি আর সম্পূর্ণ খালি পায়েই লাইনে দাঁড়ান কবিতা। গরম পিচঢালা পথ ও নানা প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে মাত্র ছয় মিনিটে তিনি ১ হাজার ৬০০ মিটার পথ দৌড়ে শেষ করেন। তার এই অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স দেখে হতবাক হয়ে যান উপস্থিত প্রশিক্ষক ও দর্শকরা।
আগামী ২৪ অক্টোবর থেকে ৫ নভেম্বরের মধ্যে ঝাড়খণ্ড হোম গার্ডের অফিশিয়াল শারীরিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রামগড় জেলায় মোট ২৮৪টি শূন্যপদে এই নিয়োগে নারীদের জন্য ৫০ শতাংশ এবং বিধবাদের জন্য অতিরিক্ত ৫ শতাংশ সংরক্ষণ রয়েছে। সেই লক্ষ্যেই এখন চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছেন এই সাহসী মা।
সূত্র: এনডিটিভি
মালয়েশিয়ায় পৌঁছেছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট