মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

হামলাকারীকে ফায়ারিং স্কোয়াডে মৃত্যুদণ্ড, দেখানো হবে সরাসরি

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে গণগুলিবর্ষণে ১৩ জনকে হত্যার অপরাধে দণ্ডপ্রাপ্ত নিদাল হাসানের ফায়ারিং স্কোয়াড (গুলি করে) মৃত্যুদণ্ড সরাসরি ‘জনসমক্ষে’ সম্প্রচার করা হবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। চলতি সপ্তাহে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই ঘোষণা দেন।

গত বুধবার বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এ অতি-ডানপন্থী পডকাস্টার জ্যাক পোসোবিকের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে হেগসেথ বলেন, আমরা নিশ্চিত করব যেন মানুষ এটি সরাসরি দেখতে পারে এবং এটি জনসমক্ষে হয়। কারণ লোকজনের জানা উচিত যে এ ধরনের অপরাধের পরিণতি কতটা মারাত্মক।

বৃহস্পতিবার পেন্টাগনের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার দৃশ্য "লাইভ স্ট্রিম" (সরাসরি সম্প্রচার) করা হবে, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত আর কোনো তথ্য তিনি দেননি।

এর আগে গত সোমবার সন্ধ্যায় পেন্টাগন ঘোষণা দেয় যে, নিদাল হাসানকে ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে ফায়ারিংয়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হবে। প্রতিরক্ষামন্ত্রী হেগসেথের এই সুপারিশে অনুমোদন দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেনাবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব অ্যাডাম টেলে আগামী ৩ ডিসেম্বর ফোর্ট হুডে নিদাল হাসানের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

হেগসেথ জানান, আমরা এটি বৃহস্পতিবার দুপুর ১টায় সম্পন্ন করব—ঠিক যে সময়ে সে হামলাটি চালিয়েছিল। রাইফেলধারী সেনারা ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে এই মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করবে।

২০১৩ সালের জুলাই মাসে নিদাল হাসানকে ১৩টি পূর্বপরিকল্পিত খুন এবং ৩২টি হত্যাচেষ্টার অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। বিচারের সময় ১৩ জন কর্মকর্তার একটি প্যানেলকে হাসান জানিয়েছিলেন, তিনি সেইসব সেনাদের লক্ষ্যবস্তু করেছিলেন যারা আফগানিস্তানে মোতায়েন হতে যাচ্ছিল এবং একটি "অবৈধ যুদ্ধে" জড়াতে যাচ্ছিল। হামলার দিন ফোর্ট হুডের মেডিকেল প্রসেসিং সেন্টারে সেনাদের ওপর তিনি অতর্কিত গুলি চালান। একপর্যায়ে পুলিশ সদস্য তাকে লক্ষ্য করে গুলি চালালে তিনি আহত হন ও ধরা পড়েন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন সেনাবাহিনী কর্তৃক ফায়ারিং স্কোয়াডের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা এটিই প্রথম হতে যাচ্ছে। সাক্ষাৎকারে হেগসেথ বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমাদের যে মানসিকতা ছিল, তা আমার পছন্দ—আর তা হলো জয় লাভ করা এবং শত্রু আক্রমণ করলে নিজেদের অবস্থান শক্ত রাখা।

তবে সামরিক মৃত্যুদণ্ড সম্পর্কিত মার্কিন সেনাবাহিনীর প্রচলিত নীতিমালার (Army Regulation 190-55) সঙ্গে এই ধরনের পাবলিক লাইভ স্ট্রিমিং সাংঘর্ষিক হতে পারে। এই নীতিমালায় সেনাসদস্যের মৃত্যুদণ্ড কারা দেখতে পারবেন তার সুনির্দিষ্ট নিয়ম রয়েছে এবং অপ্রাপ্তবয়স্কদের এটি দেখা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তবে সেনাবাহিনীর ‘প্রোভোস্ট মার্শাল জেনারেল’ চাইলে আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক না হওয়া সাপেক্ষে এই নিয়মে শিথিলতা বা ছাড় দিতে পারেন।

সূত্র: সিএনএন