ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়ক্ষতি ও যুদ্ধের প্রকৃত প্রভাব কংগ্রেস এবং মার্কিন জনগণের কাছ থেকে আড়াল করার চেষ্টা চলছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্র্যাট সিনেটর ক্রিস মারফি। তাঁর দাবি, মধ্যপ্রাচ্য সফরের সময় কাতারে অবস্থিত গুরুত্বপূর্ণ মার্কিন সামরিক ঘাঁটি আল উদেইদ বিমানঘাঁটিতে প্রবেশের অনুমতি দেয়নি দেশটির প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মারফি বলেন, তাঁর এই সফর থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে যুদ্ধের ব্যয় ও এর সামগ্রিক প্রভাব সম্পর্কে কংগ্রেস এবং মার্কিন জনগণকে অন্ধকারে রাখার একটি সক্রিয়, নজিরবিহীন ও অসাংবিধানিক প্রচেষ্টা চলছে।
তিনি বলেন, ‘এই যুদ্ধের ব্যয় এবং এর পরিণতি কংগ্রেস ও মার্কিন জনগণের কাছ থেকে আড়াল করার জন্য একটি সক্রিয়, নজিরবিহীন ও অসাংবিধানিক উদ্যোগ চলছে—এই সফর আমাকে সে বিষয়ে নিশ্চিত করেছে।’
মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি আল উদেইদ
কাতারে অবস্থিত আল উদেইদ বিমানঘাঁটি মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় সামরিক ঘাঁটি। চলমান ইরান যুদ্ধে ঘাঁটিটি একাধিকবার ইরানি হামলার লক্ষ্য হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানবিরোধী সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এই ঘাঁটির কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
মারফি জানান, শুধু ঘাঁটিতে প্রবেশের অনুমতিই দেওয়া হয়নি, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানকালে যুদ্ধের পরিস্থিতি নিয়ে তাঁকে আনুষ্ঠানিক ব্রিফিং দেওয়ার ব্যবস্থাও করেনি পেন্টাগন।
তিনি বলেন, সিনেটের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ে এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি আগে কখনো হননি। তাঁর অভিযোগ, এটি তথ্য আড়াল করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টার অংশ। এ বিষয়ে কংগ্রেসে তাঁর রিপাবলিকান সহকর্মীদেরও সোচ্চার হওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।
পেন্টাগনের বক্তব্য কী?
মারফির অভিযোগের বিষয়ে পেন্টাগনের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, সফরের আগেই সিনেটরের দপ্তরকে জানানো হয়েছিল যে কাতারের ওই সামরিক ঘাঁটিতে প্রবেশের জন্য প্রতিরক্ষা দপ্তর প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করবে না।
কর্মকর্তার ভাষ্য অনুযায়ী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ২০২৬ সালের ৩ মার্চ জারি করা নির্দেশনার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই নির্দেশনায় সংশ্লিষ্ট অঞ্চলে সফরের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল বলে তিনি জানান।
পেন্টাগনের ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘প্রতিরক্ষা দপ্তর প্রতিরক্ষামন্ত্রীর নির্দেশনা সবার ক্ষেত্রে সমানভাবে প্রয়োগ করে।’
অর্থাৎ, মারফির অভিযোগের বিপরীতে পেন্টাগন বিষয়টিকে যুদ্ধের ক্ষয়ক্ষতি গোপন করার উদ্যোগ হিসেবে নয়, বরং বিদ্যমান ভ্রমণবিধি অনুসরণের বিষয় হিসেবে তুলে ধরেছে।
যুদ্ধের ব্যয় ও হতাহতের তথ্য নিয়ে উদ্বেগ
ইরান যুদ্ধের ব্যয়, সামরিক কৌশল এবং হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের একাধিক সদস্য প্রশাসনের ওপর চাপ দিয়ে আসছেন। তাঁদের মধ্যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের কিছু সদস্যও রয়েছেন।
মারফির অভিযোগ, যুদ্ধের প্রকৃত চিত্র জানার ক্ষেত্রে কংগ্রেসের তদারকির দায়িত্ব বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। তবে পেন্টাগন তাঁর অভিযোগের বিষয়ে সরাসরি একমত হয়নি; বরং ঘাঁটিতে প্রবেশের অনুমতি না দেওয়ার পেছনে পূর্বঘোষিত নির্দেশনার কথা জানিয়েছে।
রুবিওর সহযোগিতা, উপসাগরীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক
মারফি জানান, মধ্যপ্রাচ্য সফরের আয়োজন ও কূটনীতিকদের সঙ্গে বৈঠকের ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও সহযোগিতা করেছেন। এ কারণে পররাষ্ট্র দপ্তরের ভূমিকার সঙ্গে পেন্টাগনের অবস্থানের পার্থক্যও তুলে ধরেন তিনি।
সফরকালে সিনেটের পররাষ্ট্র সম্পর্কবিষয়ক কমিটির সদস্য মারফি কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি এবং সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ ছাড়া উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার সঙ্গেও তাঁর বৈঠক হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের কানেকটিকাট অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধিত্বকারী এই সিনেটরের অভিযোগ এবং পেন্টাগনের ব্যাখ্যা—দুইয়ের মধ্য দিয়ে ইরান যুদ্ধ নিয়ে মার্কিন প্রশাসনের স্বচ্ছতা, কংগ্রেসের তদারকি এবং সামরিক তথ্যপ্রাপ্তির অধিকার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স।
গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও প্রতি ৯০ মিনিটে একজন ফিলিস্তিনি নিহত
সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ইসলামের কঠোর সতর্কবার্তা