রাশিয়ার তেল পরিবহনে জড়িত থাকার অভিযোগে ভারত মহাসাগরে একটি তেলবাহী ট্যাংকার জাহাজে অভিযান চালিয়ে সেটি আটক করেছে ফরাসি নৌবাহিনী। জাহাজটি নিষিদ্ধ জ্বালানি বাণিজ্যে জড়িত এবং ভুয়া পতাকা ব্যবহার করে চলাচল করছিল বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। স্থানীয় সময় সোমবার (১২ অক্টোবর) ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ এই তথ্য জানিয়েছেন।
মাখোঁ জানান, ভারত মহাসাগরে রিইউনিয়ন দ্বীপের প্রায় ৪৫০ নটিক্যাল মাইল দক্ষিণে ‘ডিএফ পিক’ নামের ট্যাংকারটিতে অভিযান চালানো হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমাদের ফরাসি নৌবাহিনী ডিএফ পিক তেলবাহী ট্যাংকারটিতে উঠেছে। জাহাজটি ভুয়া পতাকার অধীনে চলাচল করছিল এবং অবৈধ জ্বালানি বাণিজ্যে জড়িত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।’
পোস্টের সঙ্গে অভিযানের একটি ভিডিও প্রকাশ করেন মাখোঁ। এতে সেনাসদস্যদের দড়ি বেয়ে জাহাজটিতে নামতে দেখা যায়।
ফ্রান্সের সশস্ত্র বাহিনীবিষয়ক মন্ত্রী ক্যাথরিন ভোত্রাঁ অভিযানে অংশ নেওয়া সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি বলেন, রিইউনিয়নের প্রশাসনিক প্রধানের কর্তৃত্বে আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য ফরাসি সামরিক বাহিনী জাহাজটিকে পাহারা দিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।
ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিইউআর-এর দাবি, ডিএফ পিক রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল পরিবহনে জড়িত এবং রুশ জাহাজ পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান সোভকমফ্লটের সঙ্গে এর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালে নির্মিত জাহাজটি বিভিন্ন সময়ে একাধিক দেশের পতাকার অধীনে চলাচল করেছে।
মাখোঁ বলেন, বিশ্বের যেখানেই থাকুক, রাশিয়ার ‘ছায়া বহরের’ বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ফ্রান্স দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। গত জুনেও সিসিলি উপকূলে ‘ডেলিভার’ নামের রুশ ছায়া বহরের একটি ট্যাংকার আটক করেছিল ফরাসি বাহিনী। সে সময় মাখোঁ বলেছিলেন, জাহাজটি সামুদ্রিক আইন লঙ্ঘন করে চলাচল করছিল।
রাশিয়ার জ্বালানি খাতে পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়াতে দেশটি ‘ছায়া বহর’ ব্যবহার করে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব জাহাজের মালিকানা জটিল কাঠামোর আড়ালে রাখা হয় এবং অনেক ক্ষেত্রে সুবিধাজনক দেশের পতাকা ব্যবহার করা হয়, যাতে তেলের উৎস ও পরিবহন-সংশ্লিষ্ট তথ্য গোপন রাখা যায়।
সূত্র : ইউরো নিউজ