ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার কারণে সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর 'কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর'-এর ফ্লাইট স্থগিতের সময়সীমা আগামী শনিবার (১৭ অক্টোবর) পর্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়েছে।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে প্রধান আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্সগুলো সৌদি আরবে তাদের ফ্লাইট বাতিল ঘোষণা করায় মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে নজিরবিহীন সংকট তৈরি হয়েছে।
সৌদি অসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, বিমানবন্দরে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং অবকাঠামোগত সক্ষমতা ও প্রস্তুত নিশ্চিত করতেই রিয়াদ বিমানবন্দরের কার্যক্রম আপাতত ১৭ অক্টোবর রাত ৯টা (জিএমটি) পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার রিয়াদ বিমানবন্দরে হুথিদের রক্তক্ষয়ী হামলায় ১৩ জন নিহত ও ৩০০ জনের বেশি আহত হন। এর পরদিন রোববারেও বিমানবন্দরটিতে দ্বিতীয় দফায় হামলায় আরও ১ জন নিহত হন। গত সোমবার রাতেও রিয়াদ অভিমুখে আসা একটি ব্যালাস্টিক মিসাইল ধ্বংস করার দাবি করেছে সৌদি আরব, যদিও হুথিদের দাবি তারা বিমানবন্দরে সফলভাবে মিসাইল নিক্ষেপ করেছে।
এভিয়েশন অ্যানালিটিক্স ফার্ম 'Cirium'-এর তথ্য অনুযায়ী, এই হামলার প্রভাবে সৌদি আরবের অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক মোট ফ্লাইটের প্রায় ৪৬.৪% বাতিল করা হয়েছে। এভিয়েশন সুরক্ষা সংস্থা 'OPSGROUP'-এর প্রধান মার্ক জি এই ঘটনাকে নজিরবিহীন উল্লেখ করে বলেন, "অসামরিক বিমান চলাচলের ওপর এই ধরণের তীব্র ও ধারাবাহিক আক্রমণ আগে কখনো দেখা যায়নি।"
এয়ারলাইন্সগুলোর ফ্লাইট স্থগিত ও সিদ্ধান্ত
লুফথানসা (Lufthansa): ১৬ অক্টোবর পর্যন্ত রিয়াদে সব ফ্লাইট বাতিল।
এয়ার ফ্রান্স-কেএলএম (Air France-KLM): চলতি অক্টোবরের শেষ পর্যন্ত ফ্লাইট বাতিল।
ইতিহাদ এয়ারওয়েজ (Etihad Airways): রিয়াদ, জেদ্দা ও দাম্মামে আগামী ১৯ অক্টোবর পর্যন্ত ফ্লাইট বন্ধ রেখেছে।
কাতার এয়ারওয়েজ (Qatar Airways): রিয়াদ ও দাম্মামে সাময়িকভাবে সব ফ্লাইট স্থগিত করেছে।
ডেল্টা এয়ার লাইন্স (Delta Air Lines): আগামী ২৩ অক্টোবর থেকে রিয়াদমুখী নতুন ফ্লাইট শুরুর পরিকল্পনা পিছিয়ে ২০২৭ সালের মার্চ পর্যন্ত স্থগিত করেছে।
এদিকে ইউএস ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (FAA) এবং ইউরোপীয় সংস্থা EASA আন্তর্জাতিক বিমানগুলোকে সৌদির আকাশসীমা ব্যবহারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। অনেক এয়ারলাইন্স মধ্যপ্রাচ্যের দক্ষিণ আকাশপথ এড়িয়ে মধ্য এশিয়া হয়ে ইউরোপ থেকে এশিয়ায় যাতায়াত করছে, যার ফলে ভ্রমণের দূরত্ব ও খরচ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে।
হামলার প্রভাব কেবল বিমান চলাচলেই সীমাবদ্ধ নেই, বরং সৌদির অর্থনীতিতেও বড় ধাক্কা দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তেল উৎপাদন হ্রাস ও সামরিক সংকটের কারণে চলতি বছর সৌদির প্রকৃত জিডিপি (Real GDP) ৩.৬% সংকুচিত হতে পারে। পাশাপাশি চলতি মাসে রিয়াদে আয়োজিত আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলন ও ওয়ার্ল্ড পেট্রোলিয়াম কাউন্সিল এনার্জি কংগ্রেসও চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সূত্র: রয়টার্স
হুথিরা কারা, কেন সৌদি আরবে হামলা চালাচ্ছে?
যুক্তরাষ্ট্রে আঘাত হানতে সক্ষম 'নতুন ক্ষেপণাস্ত্র' পরিদর্শনে কিম