ওপেনএআই কার্যালয়ে গোপন রেকর্ডার, সৌদি নাগরিক অভিযুক্ত

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান ওপেনএআইয়ের যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার কার্যালয়ে গোপনে কথোপকথন রেকর্ড করার যন্ত্র বসানোর অভিযোগে সৌদি আরবের এক নাগরিকের বিরুদ্ধে ফেডারেল মামলা হয়েছে। অভিযুক্ত আবদুর রহমান আলফোজান প্রতিষ্ঠানটির একজন প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করতেন।

মার্কিন ফেডারেল প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, আলফোজান সান ফ্রান্সিসকোয় ওপেনএআইয়ের একটি নির্বাহী সম্মেলনকক্ষে গোপনে রেকর্ডিং যন্ত্র স্থাপন করেছিলেন। এ ঘটনায় কথোপকথন আড়ি পেতে শোনার উদ্দেশ্যে ইলেকট্রনিক, যান্ত্রিক বা অন্য কোনো যন্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ওপেনএআই জানিয়েছে, তাদের কার্যালয়ে একটি ‘জটিল প্রযুক্তির রেকর্ডিং যন্ত্র’ খুঁজে পাওয়ার পর তারা এফবিআইকে বিষয়টি জানায়। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, নিজেদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মডেল ব্যবহার করে যন্ত্রটি কীভাবে স্থাপন করা হয়েছিল এবং এর সঙ্গে কোন কর্মীর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে, তা শনাক্ত করতে সহায়তা পেয়েছে তারা।

টেলিভিশনের ইউএসবি পোর্টে যন্ত্র
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ অনুযায়ী, টয়লেট টিস্যুতে মোড়ানো রেকর্ডিং যন্ত্রটি একটি নির্বাহী সম্মেলনকক্ষের টেলিভিশনের পেছনের ইউএসবি পোর্টে ঢুকিয়ে রাখা হয়েছিল। যন্ত্রটি এনক্রিপ্ট করা ছিল বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

মার্কিন তদন্তকারীদের ভাষ্য, ৩০ সেপ্টেম্বর ওপেনএআইয়ের কর্মীরা যন্ত্রটি খুঁজে পান। অভিযোগ অনুযায়ী, এর দুই দিন আগে সেটি স্থাপন করা হয়েছিল। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেল এক বিবৃতিতে অভিযোগ করেন, আলফোজান গোপনে সংবেদনশীল কথোপকথন ধারণ করার উদ্দেশ্যে যন্ত্রটি লুকিয়ে রেখেছিলেন। তদন্তকারীদের দাবি, তার সম্ভাব্য লক্ষ্য ছিল ওপেনএআইয়ের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পণ্যসংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করা।

চ্যাটবট ব্যবহার করে যন্ত্র তৈরির তথ্য খোঁজার অভিযোগ
এফবিআইয়ের অভিযোগে বলা হয়েছে, আলফোজান রেকর্ডিং যন্ত্র তৈরি ও গোপনে স্থাপনের বিষয়ে তথ্য খুঁজতে একটি উৎপাদনশীলতা-সংক্রান্ত সফটওয়্যার এবং একটি চ্যাটবট ব্যবহার করেছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি ধারাবাহিকভাবে অডিও রেকর্ড করার যন্ত্র তৈরি, ওয়াই-ফাই সংযোগ কাস্টমাইজ, দূর থেকে অডিও শোনা এবং মেমোরি কার্ড এনক্রিপ্ট করার মতো বিষয়ে অনুসন্ধান করেছিলেন। তবে এসব অনুসন্ধানের সঙ্গে অভিযোগে বর্ণিত অপরাধের সম্পর্ক তদন্তকারীদের দাবি; আদালতে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার বিষয়টি আলাদা।

প্রসিকিউটরদের ভাষ্য অনুযায়ী, ৫ অক্টোবর আলফোজান আবার ওই কক্ষে গিয়ে যন্ত্রটি পরীক্ষা করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজের মাধ্যমে তাকে ঘটনাস্থলের সঙ্গে যুক্ত করার কথা জানিয়েছে তদন্তকারী পক্ষ। একই দিন ভবনের অন্য একটি স্থানে তার একটি ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখা যায়। ওপেনএআইয়ের নিরাপত্তাকর্মীরা ব্যাগটি খুলে তার মানিব্যাগ ও পরিচয়পত্রের পাশাপাশি আগের যন্ত্রটির মতো আরেকটি রেকর্ডিং যন্ত্র পান বলে প্রসিকিউটররা জানিয়েছেন।

তথ্য চুরির প্রমাণ পায়নি ওপেনএআই
ওপেনএআই জানিয়েছে, এ ঘটনায় তাদের সোর্স কোড, এআই মডেলের ওজন-সংক্রান্ত তথ্য (মডেল ওয়েটস) কিংবা গ্রাহকদের তথ্য অননুমোদিতভাবে ব্যবহার বা চুরি করা হয়েছে এমন কোনো প্রমাণ তাদের কাছে নেই। প্রতিষ্ঠানটি অভিযুক্ত কর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে বলেও জানিয়েছে।

আলফোজান ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ওপেনএআইয়ে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করছিলেন বলে প্রসিকিউটরদের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং সংবেদনশীল তথ্য সুরক্ষার প্রশ্ন সামনে এনেছে। তবে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি। মামলার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ এবং অভিযুক্তের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়েছে কি না, তা সরবরাহ করা প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।